অনলাইনডেস্ক: B B C বাংলা

ছবির উৎস,Getty
-
- Author,আদওয়াইধ রাজন
- Role,বিবিসি স্পোর্ট
- Author,ডারিও ব্রুকস
- Role,বিবিসি নিউজ
-
Published
-
পড়ার সময়: ৭ মিনিট
ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২৬ এর জন্য কাউন্টডাউন ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে, যে টুর্নামেন্টে প্রথমবারের মতো ৪৮টি দল অংশগ্রহণ করবে এবং সবমিলিয়ে ১০০টিরও বেশি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে।
বিশ্বকাপের এই ২৩তম আসরটি ১১ই জুন থেকে ১৯শে জুলাই পর্যন্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় অনুষ্ঠিত হবে।
২০২৬ সালের ট্রফির জন্য রেকর্ড সংখ্যক ৪৮টি দল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে, যা চার বছর আগে কাতারে অংশগ্রহণকারী দলের চেয়ে ১৬টি বেশি।
এর ফলে এটি ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিশ্বকাপ হতে যাচ্ছে এবং ম্যাচসংখ্যা বেড়ে দাঁড়াবে ১০৪-এ, যা প্রথমবারের মতো তিনটি দেশে অনুষ্ঠিত হবে।
খানে উত্তর আমেরিকায় আয়োজিত এই বিশ্বকাপ সম্পর্কে জানার মতো বিষয়গুলো তুলে ধরা হলো।
১২টি গ্রুপ কীভাবে হবে?
এই বিশ্বকাপে নতুন ফরম্যাটে চার দলের ১২টি গ্রুপ থাকবে।
প্রতিটি গ্রুপের শীর্ষ দুই দল এবং আটটি সেরা তৃতীয় স্থান অধিকারী দল নকআউট পর্যায়ে উঠবে।
সেরা তৃতীয় স্থান নির্ধারণে পয়েন্ট, গোল পার্থক্য এবং মোট গোল—এই তিনটি মানদণ্ড প্রধান হিসেবে বিবেচিত হবে।

ছবির উৎস,Jim WATSON / AFP via Getty Images
কখন অনুষ্ঠিত হবে?
এবারের বিশ্বকাপের আসর ১১ই জুন থেকে ১৯শে জুলাই পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে।
এর মানে হলো, এটি রেকর্ড সংখ্যক ৩৯ দিন ধরে চলবে, যা কাতারের ২৯ দিন এবং ২০১৪ ও ২০১৮ সালের আসরের ৩২ দিনের চেয়ে ১০ দিন বেশি।
বৃহস্পতিবার, ১১ই জুন, মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক আজটেকা স্টেডিয়ামে মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যকার ম্যাচ দিয়ে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে।
উদ্বোধনী দিন থেকে ২৭শে জুন, শনিবার পর্যন্ত ১৭ দিনে মোট ৭২টি গ্রুপ পর্বের ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে।
এরপর অনুষ্ঠিত হবে ৩২ দলের পর্ব (২৮শে জুন-৩রা জুলাই), তারপরে ১৬ দলের পর্ব (৪ঠা-৭ই জুলাই), কোয়ার্টার-ফাইনাল (৯ই-১১ই জুলাই), সেমি-ফাইনাল (১৪ই-১৫ই জুলাই) এবং তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ (১৮ই জুলাই)।
আগামী ১৯শে জুলাই, রবিবার নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে নতুন বিশ্ব চ্যাম্পিয়নের হাতে কাপ তুলে দেওয়া হবে।

ছবির উৎস,Getty Images
কোথায় অনুষ্ঠিত হবে?
এই বিশ্বকাপ প্রথমবারের মতো তিনটি দেশের ১৬টি শহরে অনুষ্ঠিত হবে: যুক্তরাষ্ট্রে ১১টি, মেক্সিকোতে তিনটি এবং কানাডায় দুটি।
যেহেতু ফিফা স্টেডিয়ামের জন্য আগে থেকে বিদ্যমান বাণিজ্যিক নাম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে, তাই ২০২৬ বিশ্বকাপের জন্য ভেন্যুগুলোর নামকরণ আয়োজক শহরের নামে করা হবে।
মেক্সিকোতে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে মেক্সিকো সিটি স্টেডিয়ামে, যেটি বিশ্বকাপের তিন সংস্করণ আয়োজনকারী প্রথম ভেন্যু হিসেবে ইতিহাস গড়বে। এর পাশাপাশি ম্যাচ হবে গুয়াদালাহারা এবং মন্টেরেতেও।
কানাডায় দুটি স্থানে খেলা হবে, টরন্টো এবং ভ্যাঙ্কুভারে।
বিশ্বকাপের প্রধান আয়োজক হবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। সেখানকার আটলান্টা, বোস্টন, ডালাস, হিউস্টন, কানসাস সিটি, লস অ্যাঞ্জেলেস, মিয়ামি, নিউ ইয়র্ক বা নিউ জার্সি, ফিলাডেলফিয়া, সান ফ্রান্সিসকো বা সান্তা ক্লারা এবং সিয়াটলে খেলা হবে।

ছবির উৎস,Getty Images
খেলার সময়সূচি
যেহেতু ম্যাচগুলো চারটি ভিন্ন টাইম জোনে এবং ৪,৫০০ কিলোমিটার পর্যন্ত দূরত্বে অবস্থিত ভেন্যুগুলোতে খেলা হবে, তাই মোট ১৩টি ভিন্ন ভিন্ন সময়ে ম্যাচ শুরু হবে।
আমেরিকাই হবে সেই মহাদেশ, যারা সবচেয়ে সহজে বিশ্বকাপ উপভোগ করতে পারবে, কারণ সব ম্যাচ নিজ নিজ ভেন্যুতে দুপুর ১টার আনুষ্ঠানিক বাঁশি বাজার পর থেকে মধ্যরাতে খেলা শেষ হওয়া পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে।
কিন্তু আর্জেন্টিনা, উরুগুয়ে এবং ব্রাজিলের বেশিরভাগ অংশের ক্ষেত্রে, যদি তারা দিনের শেষ ম্যাচগুলো দেখতে চায়, তবে কোনো কোনো ক্ষেত্রে তাদের ভোর চারটার পরেও জেগে থাকতে হবে।
অন্যান্য মহাদেশের ক্ষেত্রে সময় ভিন্ন হবে। ইউরোপে বেশিরভাগ ম্যাচ সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরের দিন ভোর ৫টার মধ্যে অনুষ্ঠিত হবে। পূর্ব এশিয়া ও ওশেনিয়ায় এগুলো মূলত ভোরবেলা দেখানো হবে।

ছবির উৎস,Getty Images
ফেভারিট কারা?

ছবির উৎস,Getty Images
স্কিপ করুন বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল পড়ুন

আপনার হোয়াটসঅ্যাপে বিবিসি বাংলা।
বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।
ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন
বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল
সিয়ারান ভার্লি
বিবিসি স্পোর্ট
ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়ন স্প্যানিশ দল প্রায় নিখুঁত বাছাইপর্ব সম্পন্ন করার পর ২০২৬ বিশ্বকাপ জেতার অন্যতম দাবিদার।
তাদের স্কোয়াড প্রতিভায় পরিপূর্ণ, যেখানে পেদ্রি, ফাবিয়ান রুইজ, মার্তিন জুবিনেন্দি, ২০২৪ সালের ব্যালন ডি’অর বিজয়ী রদ্রি এবং বিশ্বের অন্যতম সেরা তরুণ ফুটবলার লামিন ইয়ামালের মতো খেলোয়াড় রয়েছেন।
গত দুটি ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নশিপে রানার্স-আপ হওয়ার পর, স্পেনের ঠিক পরেই থাকা ইংল্যান্ডের বর্তমান প্রজন্মের খেলোয়াড়রা শিরোপা জয়ের আকাঙ্ক্ষা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
টমাস টুখেলের ইংল্যান্ড দল কোনো গোল হজম না করে তাদের সব ম্যাচ জিতে নিখুঁত রেকর্ডে বিশ্বকাপের জন্য যোগ্যতা অর্জন করেছে। তাদের দলে জুড বেলিংহ্যাম এবং হ্যারি কেইনের মতো বড় বড় তারকারা রয়েছেন।
ফ্রান্সও একটি শক্তিশালী প্রতিযোগী। দিদিয়ের দেশাম্পের দলে রয়েছে এক অপ্রতিরোধ্য আক্রমণভাগ, যেখানে আছেন মাইকেল ওলিসে, কিলিয়ান এমবাপে এবং বর্তমান ব্যালন ডি’অর বিজয়ী উসমান দেম্বেলে। ২০২২ সালের রানার্স-আপ দলটি ইউরোপীয় বাছাইপর্বে অপরাজিত ছিল।
বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা, দ্বিতীয় স্থানে থাকা ইকুয়েডরের চেয়ে নয় পয়েন্ট এগিয়ে থেকে বিশাল ব্যবধানে তাদের দক্ষিণ আমেরিকান বাছাইপর্বের গ্রুপ জয় করেছে। মাত্র চার বছরে দুটি কোপা আমেরিকা শিরোপা ও একটি বিশ্বকাপ জেতায় আলবিসেলেস্তে একটি অপ্রতিরোধ্য প্রতিপক্ষ।
অবশেষে, হতাশাজনক বাছাইপর্বের খেলা সত্ত্বেও, যেখানে তারা ১৮টি ম্যাচের মধ্যে ৬টিতে হেরে কনমেবল টেবিলে পঞ্চম স্থান অর্জন করেছিল, এবং এই সত্য সত্ত্বেও যে তারা ২২ বছর আগে তাদের পাঁচটি বিশ্বকাপের শেষটি জিতেছিল, কে-ই বা ব্রাজিলকে নিশ্চিতভাবে বাদ দিতে পারে?
নজর রাখার মতো অন্যান্য দল

ছবির উৎস,Getty Images
মাইকেল এমন্স
বিবিসি স্পোর্ট
নরওয়ে ১৯৯৮ সালের পর থেকে কোনো বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করেনি এবং কখনো শেষ ষোলোর বাধা পেরোতে পারেনি, কিন্তু ম্যানচেস্টার সিটির আর্লিং হালান্ড, যিনি বাছাইপর্বে ১৬টি গোল করেছিলেন, তাকে নিয়ে তারা একটি চমক সৃষ্টি করতে পারে।
তাদের বাছাইপর্বের অভিযান ছিল ত্রুটিহীন, তারা খেলা আটটি ম্যাচের সবকটিতেই জয়লাভ করে, যার মধ্যে চারবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ইতালির বিপক্ষে ঘরের মাঠে ও প্রতিপক্ষের মাঠে জয়ও অন্তর্ভুক্ত ছিল।
মরক্কো এমন আরেকটি দল যারা তাদের বাছাইপর্বের সব ম্যাচ জিতেছে এবং বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে অষ্টম স্থানে রয়েছে। তারা এ বছরের আফ্রিকা কাপ অফ নেশনসের ফাইনালে পৌঁছেছিল এবং সেনেগালের কাছে ১-০ গোলে হেরে যাওয়া সত্ত্বেও বিতর্কিতভাবে তাদেরকে শিরোপা দেওয়া হয়। ব্রাজিল, স্কটল্যান্ড এবং হাইতিকে নিয়ে গড়া গ্রুপ থেকে পরবর্তী পর্বে যাওয়ার ব্যাপারে তারা সম্ভবত আত্মবিশ্বাসী থাকবে।
দলে মোহাম্মদ সালাহকে নিয়ে মিশরও বেলজিয়াম, নিউজিল্যান্ড ও ইরানের সঙ্গে থাকা গ্রুপটি পার হওয়ার আশা করছে।
জাপান এশিয়ার সবচেয়ে শক্তিশালী দল এবং ১৬টি ম্যাচে মাত্র তিনটি গোল হজম করে তারা বাছাইপর্বে অনায়াসে উত্তীর্ণ হয়েছে। মার্চের শেষে ওয়েম্বলিতে একটি প্রীতি ম্যাচে ১-০ গোলে জিতে তারা ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তাদের প্রথম জয়টিও নিশ্চিত করেছে। তারা নেদারল্যান্ডস, তিউনিসিয়া এবং সুইডেনের মুখোমুখি হবে।
শক্তিশালী দক্ষিণ আমেরিকান বাছাইপর্বের পর কলম্বিয়া ভালো ফল করার ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী, যেখানে তারা ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা উভয়কেই পরাজিত করে এবং সামগ্রিকভাবে তৃতীয় স্থান অর্জন করে।
আর আয়োজক দেশগুলোর কী খবর? তৃতীয়বারের মতো অংশগ্রহণে কানাডা চমক দেখাতে পারে। বিশ্বকাপে তারা তাদের আগের ছয়টি ম্যাচেই হেরেছে, কিন্তু অনুকূল ড্রয়ের ফলে তারা কাতার, সুইজারল্যান্ড এবং বসনিয়া-হার্জেগোভিনার মুখোমুখি হয়েছে।

ছবির উৎস,Getty Images
বিশ্বকাপে যাদের অভিষেক হবে
চারটি দেশ বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো খেলতে যাচ্ছে।
গ্রুপ ‘ই’-তে জার্মানি, আইভরি কোস্ট এবং ইকুয়েডরের মুখোমুখি হওয়ার মাধ্যমে ছোট্ট ক্যারিবিয়ান দ্বীপ কুরাসাও বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী সর্বকনিষ্ঠ দেশ (১,৫০,০০০ বাসিন্দা এবং ৪৪৪ বর্গ কিলোমিটার এলাকা) হয়ে উঠবে।
অন্যদিকে, কুরাসাও এবং আইসল্যান্ডের পর কেপ ভার্দে বিশ্বকাপের জন্য যোগ্যতা অর্জনকারী তৃতীয় ক্ষুদ্রতম দেশ। এটি আটলান্টিক মহাসাগরের ১০টি দ্বীপের একটি দ্বীপপুঞ্জ, যার জনসংখ্যা ৫ লাখ ২৫ হাজারেরও কম। গ্রুপ এইচ-এ তারা স্পেন, সৌদি আরব এবং উরুগুয়ের মুখোমুখি হবে।
এশিয়া থেকে দুটি নতুন দেশ রয়েছে: উজবেকিস্তান ও জর্ডান।
২০১১ সালের এশিয়ান কাপের সেমিফাইনালিস্ট উজবেকিস্তান, ২০০৬ বিশ্বকাপজয়ী ইতালীয় দলের অধিনায়ক ফাবিও ক্যানাভারোর কারিগরি নির্দেশনায় যোগ্যতা অর্জনের জন্য তাদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়েছে।
হোয়াইট উলভস দলে ম্যানচেস্টার সিটির ডিফেন্ডার আবদুকোদির খুসানভ এবং রোমার প্রাক্তন স্ট্রাইকার এলদর শোমুরোদভের মতো খেলোয়াড় রয়েছেন এবং তারা পর্তুগাল, কলম্বিয়া ও ডিআর কঙ্গোকে নিয়ে গড়া গ্রুপে নিজেদের ছাপ রাখতে আশাবাদী।

ছবির উৎস,Getty Images
অন্যদিকে, জর্ডান এশীয় বাছাইপর্বের তৃতীয় রাউন্ডে ১০ ম্যাচে চারটি জয় ও চারটি ড্র নিয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার পেছনে থেকে শেষ করেছে।
বিশ্বে তাদের অবস্থান ৬৪তম এবং তাদের অগ্রগতি ধরে রেখেছে। তারা ২০২৩ এশিয়ান কাপের ফাইনালে পৌঁছেছিল, যেখানে স্বাগতিক দেশ কাতারের কাছে পরাজিত হয়। গ্রুপ জে-তে তাদের প্রতিপক্ষ আর্জেন্টিনা, আলজেরিয়া এবং অস্ট্রিয়া।
এই বিশ্বকাপে চারটি করে দল নিয়ে ১২টি গ্রুপের একটি নতুন ফরম্যাট চালু হবে।
১২টি গ্রুপের প্রতিটির শীর্ষ দুই দল এবং সেরা আটটি তৃতীয় স্থানাধিকারী দল ৩২ দলের রাউন্ড থেকে শুরু হওয়া বর্ধিত নকআউট পর্বে উন্নীত হবে।

ছবির উৎস,Getty
-
- Author,আদওয়াইধ রাজন
- Role,বিবিসি স্পোর্ট
- Author,ডারিও ব্রুকস
- Role,বিবিসি নিউজ
-
Published
-
পড়ার সময়: ৭ মিনিট
ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২৬ এর জন্য কাউন্টডাউন ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে, যে টুর্নামেন্টে প্রথমবারের মতো ৪৮টি দল অংশগ্রহণ করবে এবং সবমিলিয়ে ১০০টিরও বেশি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে।
বিশ্বকাপের এই ২৩তম আসরটি ১১ই জুন থেকে ১৯শে জুলাই পর্যন্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় অনুষ্ঠিত হবে।
২০২৬ সালের ট্রফির জন্য রেকর্ড সংখ্যক ৪৮টি দল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে, যা চার বছর আগে কাতারে অংশগ্রহণকারী দলের চেয়ে ১৬টি বেশি।
এর ফলে এটি ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিশ্বকাপ হতে যাচ্ছে এবং ম্যাচসংখ্যা বেড়ে দাঁড়াবে ১০৪-এ, যা প্রথমবারের মতো তিনটি দেশে অনুষ্ঠিত হবে।
খানে উত্তর আমেরিকায় আয়োজিত এই বিশ্বকাপ সম্পর্কে জানার মতো বিষয়গুলো তুলে ধরা হলো।
১২টি গ্রুপ কীভাবে হবে?
এই বিশ্বকাপে নতুন ফরম্যাটে চার দলের ১২টি গ্রুপ থাকবে।
প্রতিটি গ্রুপের শীর্ষ দুই দল এবং আটটি সেরা তৃতীয় স্থান অধিকারী দল নকআউট পর্যায়ে উঠবে।
সেরা তৃতীয় স্থান নির্ধারণে পয়েন্ট, গোল পার্থক্য এবং মোট গোল—এই তিনটি মানদণ্ড প্রধান হিসেবে বিবেচিত হবে।

ছবির উৎস,Jim WATSON / AFP via Getty Images
কখন অনুষ্ঠিত হবে?
এবারের বিশ্বকাপের আসর ১১ই জুন থেকে ১৯শে জুলাই পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে।
এর মানে হলো, এটি রেকর্ড সংখ্যক ৩৯ দিন ধরে চলবে, যা কাতারের ২৯ দিন এবং ২০১৪ ও ২০১৮ সালের আসরের ৩২ দিনের চেয়ে ১০ দিন বেশি।
বৃহস্পতিবার, ১১ই জুন, মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক আজটেকা স্টেডিয়ামে মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যকার ম্যাচ দিয়ে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে।
উদ্বোধনী দিন থেকে ২৭শে জুন, শনিবার পর্যন্ত ১৭ দিনে মোট ৭২টি গ্রুপ পর্বের ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে।
এরপর অনুষ্ঠিত হবে ৩২ দলের পর্ব (২৮শে জুন-৩রা জুলাই), তারপরে ১৬ দলের পর্ব (৪ঠা-৭ই জুলাই), কোয়ার্টার-ফাইনাল (৯ই-১১ই জুলাই), সেমি-ফাইনাল (১৪ই-১৫ই জুলাই) এবং তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ (১৮ই জুলাই)।
আগামী ১৯শে জুলাই, রবিবার নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে নতুন বিশ্ব চ্যাম্পিয়নের হাতে কাপ তুলে দেওয়া হবে।

ছবির উৎস,Getty Images
কোথায় অনুষ্ঠিত হবে?
এই বিশ্বকাপ প্রথমবারের মতো তিনটি দেশের ১৬টি শহরে অনুষ্ঠিত হবে: যুক্তরাষ্ট্রে ১১টি, মেক্সিকোতে তিনটি এবং কানাডায় দুটি।
যেহেতু ফিফা স্টেডিয়ামের জন্য আগে থেকে বিদ্যমান বাণিজ্যিক নাম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে, তাই ২০২৬ বিশ্বকাপের জন্য ভেন্যুগুলোর নামকরণ আয়োজক শহরের নামে করা হবে।
মেক্সিকোতে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে মেক্সিকো সিটি স্টেডিয়ামে, যেটি বিশ্বকাপের তিন সংস্করণ আয়োজনকারী প্রথম ভেন্যু হিসেবে ইতিহাস গড়বে। এর পাশাপাশি ম্যাচ হবে গুয়াদালাহারা এবং মন্টেরেতেও।
কানাডায় দুটি স্থানে খেলা হবে, টরন্টো এবং ভ্যাঙ্কুভারে।
বিশ্বকাপের প্রধান আয়োজক হবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। সেখানকার আটলান্টা, বোস্টন, ডালাস, হিউস্টন, কানসাস সিটি, লস অ্যাঞ্জেলেস, মিয়ামি, নিউ ইয়র্ক বা নিউ জার্সি, ফিলাডেলফিয়া, সান ফ্রান্সিসকো বা সান্তা ক্লারা এবং সিয়াটলে খেলা হবে।

ছবির উৎস,Getty Images
খেলার সময়সূচি
যেহেতু ম্যাচগুলো চারটি ভিন্ন টাইম জোনে এবং ৪,৫০০ কিলোমিটার পর্যন্ত দূরত্বে অবস্থিত ভেন্যুগুলোতে খেলা হবে, তাই মোট ১৩টি ভিন্ন ভিন্ন সময়ে ম্যাচ শুরু হবে।
আমেরিকাই হবে সেই মহাদেশ, যারা সবচেয়ে সহজে বিশ্বকাপ উপভোগ করতে পারবে, কারণ সব ম্যাচ নিজ নিজ ভেন্যুতে দুপুর ১টার আনুষ্ঠানিক বাঁশি বাজার পর থেকে মধ্যরাতে খেলা শেষ হওয়া পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে।
কিন্তু আর্জেন্টিনা, উরুগুয়ে এবং ব্রাজিলের বেশিরভাগ অংশের ক্ষেত্রে, যদি তারা দিনের শেষ ম্যাচগুলো দেখতে চায়, তবে কোনো কোনো ক্ষেত্রে তাদের ভোর চারটার পরেও জেগে থাকতে হবে।
অন্যান্য মহাদেশের ক্ষেত্রে সময় ভিন্ন হবে। ইউরোপে বেশিরভাগ ম্যাচ সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরের দিন ভোর ৫টার মধ্যে অনুষ্ঠিত হবে। পূর্ব এশিয়া ও ওশেনিয়ায় এগুলো মূলত ভোরবেলা দেখানো হবে।

ছবির উৎস,Getty Images
ফেভারিট কারা?

ছবির উৎস,Getty Images
স্কিপ করুন বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল পড়ুন

আপনার হোয়াটসঅ্যাপে বিবিসি বাংলা।
বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।
ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন
বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল
সিয়ারান ভার্লি
বিবিসি স্পোর্ট
ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়ন স্প্যানিশ দল প্রায় নিখুঁত বাছাইপর্ব সম্পন্ন করার পর ২০২৬ বিশ্বকাপ জেতার অন্যতম দাবিদার।
তাদের স্কোয়াড প্রতিভায় পরিপূর্ণ, যেখানে পেদ্রি, ফাবিয়ান রুইজ, মার্তিন জুবিনেন্দি, ২০২৪ সালের ব্যালন ডি’অর বিজয়ী রদ্রি এবং বিশ্বের অন্যতম সেরা তরুণ ফুটবলার লামিন ইয়ামালের মতো খেলোয়াড় রয়েছেন।
গত দুটি ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নশিপে রানার্স-আপ হওয়ার পর, স্পেনের ঠিক পরেই থাকা ইংল্যান্ডের বর্তমান প্রজন্মের খেলোয়াড়রা শিরোপা জয়ের আকাঙ্ক্ষা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
টমাস টুখেলের ইংল্যান্ড দল কোনো গোল হজম না করে তাদের সব ম্যাচ জিতে নিখুঁত রেকর্ডে বিশ্বকাপের জন্য যোগ্যতা অর্জন করেছে। তাদের দলে জুড বেলিংহ্যাম এবং হ্যারি কেইনের মতো বড় বড় তারকারা রয়েছেন।
ফ্রান্সও একটি শক্তিশালী প্রতিযোগী। দিদিয়ের দেশাম্পের দলে রয়েছে এক অপ্রতিরোধ্য আক্রমণভাগ, যেখানে আছেন মাইকেল ওলিসে, কিলিয়ান এমবাপে এবং বর্তমান ব্যালন ডি’অর বিজয়ী উসমান দেম্বেলে। ২০২২ সালের রানার্স-আপ দলটি ইউরোপীয় বাছাইপর্বে অপরাজিত ছিল।
বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা, দ্বিতীয় স্থানে থাকা ইকুয়েডরের চেয়ে নয় পয়েন্ট এগিয়ে থেকে বিশাল ব্যবধানে তাদের দক্ষিণ আমেরিকান বাছাইপর্বের গ্রুপ জয় করেছে। মাত্র চার বছরে দুটি কোপা আমেরিকা শিরোপা ও একটি বিশ্বকাপ জেতায় আলবিসেলেস্তে একটি অপ্রতিরোধ্য প্রতিপক্ষ।
অবশেষে, হতাশাজনক বাছাইপর্বের খেলা সত্ত্বেও, যেখানে তারা ১৮টি ম্যাচের মধ্যে ৬টিতে হেরে কনমেবল টেবিলে পঞ্চম স্থান অর্জন করেছিল, এবং এই সত্য সত্ত্বেও যে তারা ২২ বছর আগে তাদের পাঁচটি বিশ্বকাপের শেষটি জিতেছিল, কে-ই বা ব্রাজিলকে নিশ্চিতভাবে বাদ দিতে পারে?
নজর রাখার মতো অন্যান্য দল

ছবির উৎস,Getty Images
মাইকেল এমন্স
বিবিসি স্পোর্ট
নরওয়ে ১৯৯৮ সালের পর থেকে কোনো বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করেনি এবং কখনো শেষ ষোলোর বাধা পেরোতে পারেনি, কিন্তু ম্যানচেস্টার সিটির আর্লিং হালান্ড, যিনি বাছাইপর্বে ১৬টি গোল করেছিলেন, তাকে নিয়ে তারা একটি চমক সৃষ্টি করতে পারে।
তাদের বাছাইপর্বের অভিযান ছিল ত্রুটিহীন, তারা খেলা আটটি ম্যাচের সবকটিতেই জয়লাভ করে, যার মধ্যে চারবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ইতালির বিপক্ষে ঘরের মাঠে ও প্রতিপক্ষের মাঠে জয়ও অন্তর্ভুক্ত ছিল।
মরক্কো এমন আরেকটি দল যারা তাদের বাছাইপর্বের সব ম্যাচ জিতেছে এবং বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে অষ্টম স্থানে রয়েছে। তারা এ বছরের আফ্রিকা কাপ অফ নেশনসের ফাইনালে পৌঁছেছিল এবং সেনেগালের কাছে ১-০ গোলে হেরে যাওয়া সত্ত্বেও বিতর্কিতভাবে তাদেরকে শিরোপা দেওয়া হয়। ব্রাজিল, স্কটল্যান্ড এবং হাইতিকে নিয়ে গড়া গ্রুপ থেকে পরবর্তী পর্বে যাওয়ার ব্যাপারে তারা সম্ভবত আত্মবিশ্বাসী থাকবে।
দলে মোহাম্মদ সালাহকে নিয়ে মিশরও বেলজিয়াম, নিউজিল্যান্ড ও ইরানের সঙ্গে থাকা গ্রুপটি পার হওয়ার আশা করছে।
জাপান এশিয়ার সবচেয়ে শক্তিশালী দল এবং ১৬টি ম্যাচে মাত্র তিনটি গোল হজম করে তারা বাছাইপর্বে অনায়াসে উত্তীর্ণ হয়েছে। মার্চের শেষে ওয়েম্বলিতে একটি প্রীতি ম্যাচে ১-০ গোলে জিতে তারা ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তাদের প্রথম জয়টিও নিশ্চিত করেছে। তারা নেদারল্যান্ডস, তিউনিসিয়া এবং সুইডেনের মুখোমুখি হবে।
শক্তিশালী দক্ষিণ আমেরিকান বাছাইপর্বের পর কলম্বিয়া ভালো ফল করার ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী, যেখানে তারা ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা উভয়কেই পরাজিত করে এবং সামগ্রিকভাবে তৃতীয় স্থান অর্জন করে।
আর আয়োজক দেশগুলোর কী খবর? তৃতীয়বারের মতো অংশগ্রহণে কানাডা চমক দেখাতে পারে। বিশ্বকাপে তারা তাদের আগের ছয়টি ম্যাচেই হেরেছে, কিন্তু অনুকূল ড্রয়ের ফলে তারা কাতার, সুইজারল্যান্ড এবং বসনিয়া-হার্জেগোভিনার মুখোমুখি হয়েছে।

ছবির উৎস,Getty Images
বিশ্বকাপে যাদের অভিষেক হবে
চারটি দেশ বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো খেলতে যাচ্ছে।
গ্রুপ ‘ই’-তে জার্মানি, আইভরি কোস্ট এবং ইকুয়েডরের মুখোমুখি হওয়ার মাধ্যমে ছোট্ট ক্যারিবিয়ান দ্বীপ কুরাসাও বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী সর্বকনিষ্ঠ দেশ (১,৫০,০০০ বাসিন্দা এবং ৪৪৪ বর্গ কিলোমিটার এলাকা) হয়ে উঠবে।
অন্যদিকে, কুরাসাও এবং আইসল্যান্ডের পর কেপ ভার্দে বিশ্বকাপের জন্য যোগ্যতা অর্জনকারী তৃতীয় ক্ষুদ্রতম দেশ। এটি আটলান্টিক মহাসাগরের ১০টি দ্বীপের একটি দ্বীপপুঞ্জ, যার জনসংখ্যা ৫ লাখ ২৫ হাজারেরও কম। গ্রুপ এইচ-এ তারা স্পেন, সৌদি আরব এবং উরুগুয়ের মুখোমুখি হবে।
এশিয়া থেকে দুটি নতুন দেশ রয়েছে: উজবেকিস্তান ও জর্ডান।
২০১১ সালের এশিয়ান কাপের সেমিফাইনালিস্ট উজবেকিস্তান, ২০০৬ বিশ্বকাপজয়ী ইতালীয় দলের অধিনায়ক ফাবিও ক্যানাভারোর কারিগরি নির্দেশনায় যোগ্যতা অর্জনের জন্য তাদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়েছে।
হোয়াইট উলভস দলে ম্যানচেস্টার সিটির ডিফেন্ডার আবদুকোদির খুসানভ এবং রোমার প্রাক্তন স্ট্রাইকার এলদর শোমুরোদভের মতো খেলোয়াড় রয়েছেন এবং তারা পর্তুগাল, কলম্বিয়া ও ডিআর কঙ্গোকে নিয়ে গড়া গ্রুপে নিজেদের ছাপ রাখতে আশাবাদী।

ছবির উৎস,Getty Images
অন্যদিকে, জর্ডান এশীয় বাছাইপর্বের তৃতীয় রাউন্ডে ১০ ম্যাচে চারটি জয় ও চারটি ড্র নিয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার পেছনে থেকে শেষ করেছে।
বিশ্বে তাদের অবস্থান ৬৪তম এবং তাদের অগ্রগতি ধরে রেখেছে। তারা ২০২৩ এশিয়ান কাপের ফাইনালে পৌঁছেছিল, যেখানে স্বাগতিক দেশ কাতারের কাছে পরাজিত হয়। গ্রুপ জে-তে তাদের প্রতিপক্ষ আর্জেন্টিনা, আলজেরিয়া এবং অস্ট্রিয়া।
এই বিশ্বকাপে চারটি করে দল নিয়ে ১২টি গ্রুপের একটি নতুন ফরম্যাট চালু হবে।
১২টি গ্রুপের প্রতিটির শীর্ষ দুই দল এবং সেরা আটটি তৃতীয় স্থানাধিকারী দল ৩২ দলের রাউন্ড থেকে শুরু হওয়া বর্ধিত নকআউট পর্বে উন্নীত হবে।



