আবু সাঈদ দেওয়ান সৌরভ:দশ বছর ভোগান্তির পর রাস্তা নিমার্ণের মাস না যেতেই রাস্তার বেহাল অবস্থা। এতো অল্প সময়ে প্রায় পৌনে ২ কোটি টাকা চুক্তির একটি নতুন মেরামত করা রাস্তা কীভাবে ভেঙে যায়?। স্থানীয় বাসিন্দারা সড়কের এমন দশায় চরম ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছে। কয়েক মাস আগে ১ কোটি ৬৯ লাখ ৭০ হাজার ৮ শত ৯৫ টাকায় মেসার্স সম্রাট ট্রেডার্সকে আয়না হল মোড় থেকে মিরকাদীম বাজার মসজিদ পযন্র্Í রাস্তার কাজটি দেয় মিরকাদীম পৌর কর্তৃপক্ষ। মিরকাদীম পৌরসভার নগর কসবা আয়না হল মোড় থেকে মিরকাদীম বাজার মসজিদ পর্যন্ত রাস্তাটি প্রায় দশ বছর যান চলাচলের অযোগ্য ছিলো। দীর্ঘ দিনের ভোগান্তি আর অপেক্ষার পর রাস্তা নিমার্ণ হয় কিন্তু নিমার্ণ ত্রুটি আর নিম্নমানের কাজের কারণে মাত্র এক মাস শেষ না হতেই ধোপা বাড়ির সামনের অংশ ভেঙ্গে খালের মধ্যে ধসে যায়। ধসে যাওয়ার পরে কয়েক বার বস্তা ও মাটি ফেলে মেরামতের কোন রকম চেষ্টা করা হয়। কিন্তু মেরামতের দুই তিনদিনের মধ্যেই আবার ভেঙ্গে যায়। এই রাস্তাটি শুধুমাত্র এলাকাবাসীর জন্যই নয় বরং মিরকাদীম হাজী আমজাদ আলী ডিগ্রী কলেজ, উচ্চ বিদ্যালয় ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী চলাচলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রায় বছর দশক পরে সংস্কারের অভাবে সড়কটি বেহাল অবস্থায় ছিলো। এই রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীদের যাতায়াত হওয়ার কারণে তাদের নিরাপত্তা ও নির্বিঘ্ন চলাচল করা অসম্ভব। বিশেষ করে বর্ষাকালে এই ভাঙা সড়ক শিক্ষার্থীদের জন্য আরও বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে। রাস্তার এই অবস্থায় যান চলাচল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
সোমবার সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রাস্তার ধসে যাওয়া ঠেকাতে বাশের বেড়া দিয়ে নিম্ন মানের মাটি মিশানো ইটের খোয়া দিয়ে রাস্তা মেরামতের কাজ করা হচ্ছে আর নিচে প্লাষ্টিকের সাদা বস্তায় মাটি ভরে কোনো রকমে নিমার্ণ ত্রুটির দায় ঠেকানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
মিরকাদীম হাজী আমজাদ আলী ডিগ্রী কলেজের দ্বাদশ শ্রেণীর ছাত্র জানায়, দীর্ঘ দিন পর রাস্তাটি মেরামতের পর এলাকার মানুষ ও আমরা ছাত্র-ছাত্রীরা অনেক খুশি হয়েছিলাম। কিন্তু মেরামতের কয়েকদিন পরই রাস্তাটি ভেঙ্গে যায় এটা অত্যন্ত দুঃখ জনক। এই রাস্তাটি আমাদের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ। রাস্তাটির মেরামতের একটি স্থায়ী সমাধান জরুরী।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ধোপা বাড়ির একজন জানান, রাস্তার মাঝ অংশে যদি ভাঙ্গা থাকে তাহলে ভাল রাস্তার ও কোন দাম নেই। আসলে এই রাস্তার কাজ ভাল ভাবে হয়নি। তাদের উচিত ছিলো খালের নিচ থেকে ঢালাই করে বাধ দিয়ে রাস্তাটি নিমার্ণ করা। কর্তৃপক্ষ কোন রকমে রাস্তাটি নিমার্ণ করে দায় সাড়তে চায়। আমরা চাই রাস্তাটি যেন দীর্ঘ মেয়াদী টেকসই হয় সেভাবে কাজ হউক।
এ বিষয়ে পৌর কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করলে পৌর নিবার্হী কর্মকতার্ ও পৌর নিবার্হী প্রকোশলী দায়সাড়া বক্তব্য দেন।
পৌর নিবাহর্ী কর্মকতার্ বজলুর রশিদ জানান, রাস্তাটির বিষয়ে আমাদের নিবার্হী প্রকোশলী ভাল বলতে পারবেন।
এ বিষয়ে মিরকাদীম পৌরসভার নিবার্হী প্রকোশলী মুহাম্মদ কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, আপনার কাছে কোন ভাল কাজের পদ্ধতির পরামর্শ থাকলে দেন। অল্প টাকার কাজ তবু আমরা আমাদের মতো করে চেষ্টা করছি। বষার্ গেলে ভাল ভাবে রাস্তাটির ব্যবস্থা করা হবে।
জনগণের টাকা সঠিক তদারকির মাধ্যমে জন কল্যাণমূলক কাজে ব্যবহার ও পৌর কর্তৃপক্ষের প্রতিটি কাজেই জবাবদিহীতা নিশ্চিত করা জরুরী। রাস্তাসহ সকল কাজ সঠিক ও সুন্দর ভাবে সম্পূর্ণ হবে, জনগণের টাকা জনকল্যাণে ব্যয় হবে এমনটাই প্রত্যাশা।