ভাঙা রাস্তায় দুর্ভোগে রোগী, শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী: উদাসীন স্থানীয় ও উপজেলা প্রশাসন

আবু সাঈদ দেওয়ান সৌরভ:মুন্সীগঞ্জের টংগীবাড়ি উপজেলার আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রামীণ সড়ক দীর্ঘদিন ধরে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়ে থাকলেও তা সংস্কারে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না। উপজেলার পূর্ব পাইকপাড়া ছোট ব্রিজ হতে পাইকপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় অভিমুখী রাস্তাটি গত প্রায় দুই মাস যাবত বেহাল অবস্থায় পড়ে আছে। ফলে এই সড়কটি দিয়ে যাতায়াতকারী হাজারো মানুষ প্রতিদিন চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। রাস্তাটির কারণে ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষা ও চিকিৎসা সেবা। এমন গুরুত্বপূর্ণ সড়কের বিষয়ে দায়িত্বশীলরা উদাসীন। এই ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য চাহিদাপত্র দিয়েছেন বলে দাবি করলেও চেয়ারম্যান এই রাস্তার বিষয়ে জানেন না দাবি করেন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রাস্তার একটি বড় অংশ ধসে গিয়ে বিশাল গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। কার্পেটিং ও ইটের খোয়া উঠে গিয়ে রাস্তাটি এখন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দুর্ঘটনা এড়াতে গর্তের মাঝে গাছের গুঁড়ি ও বাঁশের খুঁটি পুঁতে রেখেছেন। যা এই রাস্তায় চলাচল করা যানবাহনের জন্য আরও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। বিশেষ করে রাতের অন্ধকারে এই সড়ক দিয়ে যাতায়াত করা যেকোনো সাধারণ পথচারী বা যানবাহনের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক।শিক্ষার্থীরা ঝুঁকি নিয়ে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করছে, মুসল্লিদের মসজিদে যেতে কষ্ট পোহাতে হচ্ছে এবং অসুস্থ রোগীদের কমিউনিটি ক্লিনিকে পৌঁছাতে দুর্ভোগের সম্মুখীন হতে হচ্ছে।

স্থানীয়দের তথ্য সুত্রে জানা যায়, এই একমাত্র রাস্তাটি ব্যবহার করে প্রতিদিন এলাকার একটি বড় অংশের মানুষকে যাতায়াত করতে হয়। এই সড়কটি পাইকপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের শত শত শিক্ষার্থীর যাতায়াতের প্রধান পথ। এছাড়াও একটি স্থানীয় মাদরাসা, একটি মসজিদ ও একটি কমিউনিটি ক্লিনিকের স্বাস্থ্য সেবায় এই রাস্তাটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিদ্যালয় ও মাদরাসার কোমলমতি শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন বাধ্য হয়ে এই ভাঙা রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করছে। যার ফলে প্রায়শই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। এছাড়া কমিউনিটি ক্লিনিকে চিকিৎসা নিতে আসা গর্ভবতী নারী, শিশু ও বৃদ্ধরা পড়েছেন তীব্র ভোগান্তিতে। একটু অসাবধান হলেই গর্তে পড়ে গুরুতর আহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

স্থানীয় এলাকাবাসীর অভিযোগ, রাস্তাটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর থেকে আজ পর্যন্ত কয়েক মাস পার হয়ে গেলেও স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ বা কোনো জনপ্রতিনিধি এটি সংস্কারে কার্যকর পদক্ষেপ নেননি।

স্থানীয় বাসিন্দা আলমগীর হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, রাস্তাটি ভেঙে যাওয়ার পর থেকে আমরা চরম বিপদে আছি। স্কুল-মাদরাসার ছাত্র-ছাত্রীরা ঠিকমতো যেতে পারে না। রাতে রোগী নিয়ে যাওয়ার কোনো উপায় নেই। জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসন শুধু দেখছেন, কিন্তু কাজের কাজ কিছুই করছেন না।”

এই বিষয়ে আবদুল্লাহপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৮ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য রফিকুল ইসলাম বলেন, এই রাস্তাটি অনেক গুরুত্বপূর্ণ। রাস্তাটি প্রায় শতভাগ ক্ষতিগ্রস্ত, ঝুঁকি নিয়ে রোগী, শত শত শিক্ষার্থী, এলাকাবাসী যাতায়াত করছে। আমি আমার পক্ষ থেকে পরিষদে চাহিদাপত্র দিয়েছি অনেক আগেই। কিন্তু কোন কাজ হচ্ছে না।

আবদুল্লাহপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুর রহিম জানান, এই বিষয়ে তো আমাকে কেউ জানায় নি। খুবই খারাপ অবস্থা এটা এমন ভাবে কেউ বলেই নি। আমি খোঁজ খবর নিচ্ছি।

একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও চিকিৎসাকেন্দ্রের সংযোগকারী সড়ক এভাবে মাসের পর মাস ফেলে রাখা কোনোভাবেই কাম্য নয়। অবিলম্বে এই উদাসীনতা কাটিয়ে টংগীবাড়ি উপজেলা প্রকৌশল বিভাগ (LGED) এবং সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের সুদৃষ্টি কামনা করছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী। জনস্বার্থে রাস্তাটি দ্রুত সংস্কার করে চলাচলের উপযোগী করার জন্য জোর দাবি জানানো হয়েছে। বড় কোন দূর্ঘটনা ঘটার আগেই জনসাধারণের এই ভোগান্তি নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহন করবে এমনটাই প্রত্যাশা।

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *