আবু সাঈদ দেওয়ান সৌরভ, মুন্সীগঞ্জ:শত বছরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নানা অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতায় শত বছরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ধ্বংসের পথে। শিক্ষকদের স্বেচ্ছাচারিতা, নানা অনিয়ম এবং শিক্ষকদের মধ্যে সমন্বয় হীনতার কারনে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা ব্যবস্থার চরম অবনতি হয়েছে ও এসএসসি পরীক্ষার ক্ষেত্রে ও আশানুরূপ ফলাফল হচ্ছে না । শিক্ষকরা নিজেরাই অন্ত কোন্দলে জড়িত। সেখানে শিক্ষার ভাল পরিবেশ আাশা করা ভূল। মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বিনোদপুর রাম কুমার উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান ও পাঠদানের পরিবেশের অবনতি হয়েছে চরম পর্যায়ে। শিক্ষদের স্বেচ্ছাচারি মনোভাব ও নানা অনিয়ম জানার পরও প্রধান শিক্ষক কোন পদক্ষেপ নিতে পারছেন না স্থানীয় কিছু শিক্ষদের প্রভাবের কারনে। প্রায় অধিকাংশ শিক্ষক নানা রকম অনিয়মে জড়িত রয়েছেন। শিক্ষদের মধ্যে কোন মিল নেই। একজন আরেকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাহাড়সম। শ্রেণি কক্ষে ক্লাস চলাকালীন সময়ে ছাত্র- ছাত্রীদের নিজের কাছে প্রাইভেট পড়তে উৎসাহী করেন। তাদের কাছে না পড়লে ফেল করানোর হুমকি দেন কিছু শিক্ষক। এছাড়াও ক্লাসে গিয়ে গল্প গুজব হরহামেশাই চলে। শিক্ষকদের দায়িত্ব অবহেলা চরম পর্যায়ে। প্রায় অধিকাংশ শিক্ষক বক্তিগত ভাবে প্রাইভেট পড়তে বাধ্য করেন। এছাড়াও ছাত্র-ছাত্রীদের সাথে বিরুপ আচরণের ঘটনা হরহামেশাই ঘটছে।
ছাত্র-ছাত্রীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, সুমি ম্যাডাম, কাশেম স্যার, হৃদয় মন্ডল, বিপ্লব, হায়দার, রহিম স্যারের বিরুদ্ধে অভিযোগ অনেক বেশি। এরা ছাত্র-ছাত্রীদের নানা রকমভাবে হুমকি দেন এবং সরাসরি নিজেদের কাছে পড়তে উৎসাহিত করেন। এছাড়াও একাধিক শিক্ষক-শিক্ষিকার বিরুদ্ধে শ্রেণি কক্ষে গল্প-গুজবের অভিযোগ রয়েছে। ৬ থেকে ৭ টি বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়ার পরেও কৃতকার্য দেখানো হয়।
বিদ্যালয়ে গিয়ে শিক্ষকদের সাথে কথা বলে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়। একজন শিক্ষক আরেক জনের বিরুদ্ধে নানা রকম অভিযোগ করেন। শিক্ষকরা নিজেরাই বলেন, আমাদের ছাত্র-ছাত্রীরা পড়াশোনাই ভাল না। নবম ও দশম শ্রেণির ছাত্র-ছাত্রীরা ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ার যোগ্য নয় বলে দায় স্বীকার করেন। তাদের সাথে কথা বলার সময় শিক্ষকদের অন্ত কোন্দলের বিষয়টি প্রকাশ্য আসে। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বেশির ভাগ শিক্ষকই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। অভিযোগকারী ছাত্র-ছাত্রীদের নাম জানতে চান। অভিযুক্ত শিক্ষকগণ উল্টো ছাত্র-ছাত্রীদের বিরুদ্ধে নানা রকম অভিযোগ করেন। নিজের বিরুদ্ধে অভিযোগ অস্বীকার করে অন্য সহকর্মীরা অনিয়মে জড়িত বলে স্বীকার করেন কিন্তু নাম প্রকাশ করতে রাজি হন না।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন শিক্ষক জানান, অভিযোগের সত্যতা রয়েছে। শিক্ষকরা নিজেদের স্বার্থে ক্লাস ফাঁকি দিয়ে প্রাইভেট পড়াতে ব্যস্ত। স্থানীয় শিক্ষকরা অনেক প্রভাব খাটান। বিদ্যালয়ের সমস্যা নিয়ে আলোচনায় বসলে চিল্লা-চিল্লি করেন। প্রধান শিক্ষক অসহায়ের মতো সব কিছু এড়িয়ে যান। তিনি সব কিছু জেনেও পদক্ষেপ নেন না।
এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক জানান, সরকার পরিবর্তনের পর ছাত্র-ছাত্রীরা আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। কোনভাবেই নিয়ন্ত্রণ করতে পারছি না। শিক্ষার মান উন্নয়নে নানাভাবে চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। আমি ছাত্র-ছাত্রীদের কোন অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম প্রধান জানান, খুব শীগ্রই বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করে ফলাফল ও শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে কথা বলতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমানের সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এসএসসি ফলাফল আশানুরূপ না হওয়ার কারণ উদঘাটন, মূল্যায়ন, বিদ্যালয়টি শিক্ষার মান উন্নয়ন ও সমস্যা উত্তরণের লক্ষে চলমান শিক্ষাবর্ষে কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। এছাড়াও শিক্ষকদের নিজেদের মধ্যে অন্ত কোন্দল নিরসনে ব্যবস্থা নেওয়া ও প্রাইভেট পড়ানো বন্ধ করা অত্যাবশ্যক। নতুন শিক্ষাবর্ষে শিক্ষকগণ ও প্রতিষ্ঠান প্রধান আত্মমূল্যায়ন শেষে নিজেদের ও প্রতিষ্ঠানের উন্নতির জায়গা নির্ধারণ পূর্বক কার্যক্রম গ্রহণ করা জরুরি। মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা যথাযথ পদক্ষেপ নিয়ে শত বছরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি সুনামের সাথে প্রতিষ্ঠা করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে এমনটাই প্রত্যাশা।