আবু সাঈদ দেওয়ান সৌরভ মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি:আলুর রাজধানী খ্যাত মুন্সীগঞ্জের প্রধান ফসল আলু। মুন্সীগঞ্জের বৃহওর শ্রীনগরের আড়িয়ল বিলসহ মুন্সীগঞ্জের কৃষি জমি গুলোতে আলু, ধান, শীতকালীন শাক-সবজিসহ অন্যান্য রবি-শস্য আবাদের প্রস্তুতি চলছে। বীজতলার পাশাপাশি ফসলের মাঠ প্রস্তুতকরণে চলছে বিশাল কর্মযজ্ঞ। আর এসব বির্স্তীণ জমিতে কাজ করনে হাজার হাজার কৃষি শ্রমিক। এসময়ে মুন্সীগঞ্জে কৃষি শ্রমিকের অভাব থাকে। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে মুন্সীগঞ্জে অসংখ্য শ্রমিক আসে কাজের খোজে। এসময় শ্রীনগর, টঙ্গীবাড়ি, সিরাজদিখানসহ জেলার বিভিন্ন স্থানে শ্রমিকদের শ্রম বিক্রিয়ের হাট বসে। এ বাজারগুলোতে অন্যান্য পন্যেও মতোই দর-দাম করে ঠিক হয় একজন শ্রমিকের মজুরী।
কৃষিতে শ্রমিকের অভাব পূরণে শ্রীনগর চকবাজারসহ উপজেলার হাটবাজারে বসে ব্যতিক্রমী শ্রম বিক্রির হাট। সূর্যের আলো ফুটে উঠার আগে শ্রীনগর চকবাজারসহ অন্যান্য বাজারে বসছে শ্রম বিক্রয়ের হাট। সকালে সূর্য উঠার আগে ও সূর্য ডোবার পরে স্থানীয় বাজারগুলোতে শ্রম বিকিকিনি জমে উঠছে। শ্রমিক সংগ্রহের জন্য স্থানীয় কৃষকরা এসব বাজারে ভিড় জমাচ্ছেন। তবে সবচেয়ে বড় শ্রম বিক্রির হাট হিসেবে শ্রীনগর চকবাজারকেই ধরা হয়। ফজরের আজানের পরপরই চকবাজার জোড়া সেতুতে হাজারো শ্রমিক উপস্থিত হচ্ছেন শ্রম বিক্রির জন্য। এখানে যেসকল ক্রেতা বা জমির মালিক আসেন তারা দেখেশুনে শ্রমিকদের সাথে কথা বলে দর-দাম করে পছন্দমতো নিদিষ্ট সময়ের জন্য শ্রমিক ঠিক করে নেন। দিনে তিন বেলা খাবার দিয়ে একজন শ্রমিকের পারিশ্রমিক ৬০০-৭০০ টাকা করে কাজের জন্য চুক্তিবদ্ধ হন।
সরজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, বিখ্যাত আড়িয়ল বিলসহ উপজেলার অন্যান্য চকের পানি নামতে শুরু করেছে। এতে ধান, আলু, শাক-সবজিসহ অন্যান্য ফসলী জমি পরিস্কার পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি নানা ধরণের বীজতলা প্রস্তুতের কাজে হাজার শ্রমিক ঘাম ঝড়াচ্ছেন।

স্থানীয়রা জানায়, দিনের আলো ফুঁটার আগে শ্রীনগর চকবাজার এলাকাটি শ্রমিকদের হাকডাকে সরব হয়ে উঠে। শতশত কৃষি শ্রমিক তাদের শ্রম বিক্রি করতে দেশের নানা প্রান্ত থেকে এখানে আসেন। কৃষি জমির পানি নিস্কাশনে কিছুটা ধীরগতি হচ্ছে। উপজেলায় অধিকাংশ কৃষি জমি এখন জলমগ্ন। এলাকার খাল-জলাশয়, সেতু-কালভার্টের সামনে অপরিকল্পিতভাবে ভরাট ও দখলের ফলে পানি নিস্কাশনে বাঁধাগ্রস্ত হচ্ছে। এতে কৃষি জমিগুলো দীর্ঘ জলাবদ্ধতার আশঙ্কা রয়েছে। জলাবদ্ধতা কমে গেলে কাজের ব্যস্ততা আরো বাড়বে। তখন আরো বেশি শ্রমিকদের হাক-ডাকে জমে ওঠবে এসব শ্রম বিক্রির হাটে।
শ্রম বিক্রয় করতে আসা শ্রমিকরা জানান, বছরের এ সময় কৃষি কাজে শ্রম দিতে আসেন তারা। এই অঞ্চলে ধান-আলু চাষকে সামনে রেখে কয়েক মাস কাজ করে নিজের বাড়িতে ফিরে যাবেন। চাপাই নবাবগঞ্জ, দিনাজপুর, রংপুর, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, সোনামগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসছেন। অনেকেই আবার পূর্ব পরিচিত গৃহস্তদের জমিতে সরাসরি কাজে যুক্ত হন।
উল্খ্যে, মুন্সীগঞ্জের কৃষিতে দূরদুরান্ত থেকে আসা কৃষি শ্রমিকরা ফসল উৎপাদণে ব্যাপক ভূমিকা রাখেন। জেলাব্যাপী প্রায় ৩৪ হাজার ৬৫৫ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের ধান ও প্রায় ২৩০০ হেক্টর জমিতে আলু চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে খোলা মাঠে কাজ শ্রম দিচ্ছেন হাজার হাজার শ্রমিক।