আবু সাঈদ দেওয়ান সৌরভ, মুন্সীগঞ্জ,রহস্যজনক ভাবে বালু কাটার মেশিন জব্দ না করে, শ্রমিকদের কারাদণ্ড দিয়েছে প্রশাসন! এ নিয়ে উপজেলা প্রশাসনের সঠিক ও নিরপেক্ষ ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বালু কাটার মেশিন জব্দ না করে, ইউএনও সদর,এসিল্যান্ড সদর,মুন্সীগঞ্জ থানা ও নৌ পুলিশের সমন্বয়ে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে বলগেটের চারজন শ্রমিককে কারাদণ্ড দেওয়া দিয়েছেন। অথচ বলগেটের পাশেই ছিলো বালু কাটার মেশিন। মূল অপরাধীদের ছেড়ে দিয়ে, বলগেটের সাধারণ শ্রমিকদের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এতে করে সমস্যার কোন সমাধান হলো না বরং মূল অপরাধীরা ধরাছোঁয়ার বাইরেই রয়ে গেলো। বলগেট শ্রমিকদের পাশাপাশি বালু কাটার মেশিন জব্দ করা হলেই বরং অভিযান সফল ও কার্যকরী হতো। কোন অদৃশ্য কারণে বালু কাটার মেশিন জব্দ করা হলো না এমন প্রশ্ন? স্থানীয়দের। এ বিষয় নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার ভূমি এর সাথে কথা বললে উভয়ই গধবাধাঁ উওর দিয়ে নিজেদের দায় সাড়েন।
তথ্য সুত্রে জানা যায়, মুন্সীগঞ্জ সদরের কালিরচর,চর আবদুল্লা ও কাওয়াদি এলাকাবাসীর দীর্ঘ দিনের অভিযোগ বালু ব্যবসায়ীদের অবৈধভাবে বালু কাটার ফলে তাদের ভিটে বাড়ি, কৃষি জমি নদী ভাঙনের শিকার হচ্ছে। নিজেদের ভিটে মাটি রক্ষায় এসব এলাকার মানুষ বালু ব্যবসয়ীদের সাথে কয়েকবার দন্দে
জড়িয়ে পড়ে এবং তাদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়। এছাড়াও এলাকাবাসী কয়েকবার মানববন্ধন করে এবং জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। এলাকাবাসীর সংঘর্ষ, মানববন্ধন নিয়ে বেশ কয়েকবার বিভিন্ন পত্রিকা ও টেলিভিশন চ্যানেলে সংবাদ প্রকাশ হয়। গতকাল ১৫ ই সেপ্টেম্বর সোমবার অবৈধ বালু উওোলনের বিরুদ্ধে ইউএনও সদর,এসিল্যান্ড সদর,মুন্সীগঞ্জ থানা ও নৌ পুলিশের সমন্বয়ে এ অভিযান পরিচালনা করে। বলগেটের চারজনকে কারাদণ্ড দেয় এবং এ অভিযানের ভিডিও ফুটেজ ও ছবি পোস্ট করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার ভূমি উভয়ে তাদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেইজে পোস্ট করেন। ও উল্লেখ করেন অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।
এ বিষয়ে স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, আমরা বিভিন্ন ভাবে আমাদের কৃষি জমি ও ভিটে মাটি রক্ষায় প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেছি। কিন্তু কোন লাভ হয়নি। প্রশাসন কোন পদক্ষেপ নেয়নি। পরে আমরা বাধ্য হয়েই নিজেরাই অবৈধ বালু উওোলনকারীদের বিরুদ্ধে একত্রিত হয়ে প্রতিরোধ করার চেষ্টা করি। প্রশাসন যেহেতু পদক্ষেপ নিলোই তাহলে কেন সঠিক ভাবে কাজটা করলো না। কোন অদৃশ্য কারণে বালু কাটার মেশিন জব্দ করা হলো না।

এটা তো সমস্যার সমাধান হলো না।
স্থানীয় বাসিন্দারা আরো বলেন, সত্যি কথা হচ্ছে, এই অবৈধ বালু উওোলনকারীদের আশ্রয় ও প্রশ্রয় দিয়ে প্রশাসনই তাদের সহযোগিতা করে আসছে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ বালগেট মালিক পরিবহন সংস্থার সভাপতি বোরহান মিয়া বুলু জানান, জেলা প্রশাসক বালু মহল ইজারা দিয়েছে। আমরা বালু কিনতে গিয়েছি। আমরা তো অবৈধ ভাবে বালু উওোলন করিনি। আমাদের শ্রমিকদের বিনা দোষে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আমরা বালু কিনলে প্রশাসন শাস্তি দেয়। আর না কিনলে বালু মহলের নেতারা হুমকি দেয়। এটা আমাদের সাথে অন্যান করা হয়েছে। তারা বালু মহল বন্ধ করে দেওয়া হউক। তাহলে আমরাও বালু কিনবো না।
এ বিষয়ে মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার ভূমি মারজানা আক্তার বলেন, সেখানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা স্যার ছিলেন তার সাথে কথা বলেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান জানান,
আইন অনুযায়ী মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে।
সকল অবৈধ বালু উওোলনকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে প্রশাসনের নিরপেক্ষ ভূমিকা পালনের মুন্সীগঞ্জের সাধারণ মানুষের কৃষি জমি ও পৈতৃক ভিটা-মাটি রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে এমনটাই প্রত্যাশা।