আবু সাঈদ দেওয়ান সৌরভ, মুন্সীগঞ্জ:আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে জমে উঠেছে মুন্সীগঞ্জের নির্বাচনি মাঠ। বিএনপির ঘাটি হিসাবে পরিচিত মুন্সীগঞ্জে নির্বাচনী প্রচার যুদ্ধে বিএনপি-জামায়াতের সঙ্গে পিছিয়ে নেই অন্য দলগুলোও। তারাও চালিয়ে যাচ্ছে প্রচার-প্রচারণা। মুন্সীগঞ্জের প্রায় সব কয়টিই আসনই ২০০৬ সালের পূর্বে বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিল। এখন ঘাঁটিটি দখলে নিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে বিএনপি এবং জামায়াতও তাদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ভোটের মাঠ চষে বেড়াচ্ছে।
এরই মধ্যে মুন্সীগঞ্জের তিনটি আসনের মধ্যে দুইটিতে নিজেদের প্রার্থিতা ঘোষণা করেছে বিএনপি। একটি আসনে এখন পর্যন্ত প্রার্থিতা ঘোষণা করা হয়নি। জামায়াত তিনটি আসনেই প্রার্থী ঘোষণা করেছে। অন্য দলগুলোও তাদের প্রার্থী দিয়েছে। যদিও এনসিপি এখন পর্যন্ত কোনো প্রার্থী ঘোষণা করেনি।
মাঠের খবর অনুযায়ী, বড় দুই দল বিএনপি এবং জামায়াতের প্রার্থীরা তাদের দলীয় নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের নিয়ে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। তাদের প্রচার-প্রচারণায় হাটবাজার, মাঠঘাট সরগরম। ভোট প্রার্থনা করে প্রার্থীরা দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতি। ইসলামী আন্দোলন প্রার্থীরা ও সমানতালে প্রচার প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।
মুন্সীগঞ্জ-১: শ্রীনগর ও সিরাজদিখান উপজেলার সমন্বয়ে গঠিত মুন্সীগঞ্জ-১ আসন। বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে দলীয় কোন্দলের কারণে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনায় রয়েছে মুন্সীগঞ্জ-১ আসনটি। এটি অন্যতম প্রতিদ্ব›িদ্বতাপূর্র্র্ণ আসন। এ আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন শেখ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ। এখানে বিএনপির একাধিক হেবিওয়েট প্রার্থী রয়েছে। এলাকায় গুঞ্জন রয়েছে এ আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী পরিবর্তন হতে পারে। ফলে প্রার্থিতা নিয়ে আসনটির সমীকরণ পাল্টে যেতে পারে। এমতাবস্থায় শ্রীনগর-সিরাজদিখানের রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছে অবশেষে কি পরিবর্তন হবে বিএনপির মনোনয়ন। শেখ আবদুল্লাহ ছাড়াও এ আসনে দীর্ঘদিন যাবৎ ভোটের মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন বিএনপির কেন্দীয় নির্বাহী কমিটির সেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু ও শ্রীনগর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মমীন আলী। স্থানীয় গুঞ্জন রয়েছে দলীয় কোন্দলের কারণে শেষে এ আসনটিতে থাবা বসাতে পারে জামায়াতে ইসলাম। এ অবস্থায় ভোটের মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন জামায়াতের প্রার্থী মুন্সীগঞ্জ জেলার সেক্রেটারি এ কে এম ফখরুদ্দীন রাজী। এছাড়াও জাতীয় নাগরিক পার্টি থেকে এ আসনে মনোনয়ন কিনেছেন ৩জন। বেশি আলোচনায় রয়েছেন মুন্সীগঞ্জ জেলা শাখার সমন্বয় কমিটির সদস্য হাসানুল ইসলাম খান। এছাড়াও ইসলামী আন্দোলনের কে এম আতিকুর রহমান সমানতালে ভোটের মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন।
মুন্সীগঞ্জ-২ : টঙ্গীবাড়ি ও লৌহজং উপজেলা সমন্বয়ে গঠিত মুন্সীগঞ্জ-২ আসন। এ আসনে বিএনপি হেভিওয়েট প্রার্থীকে মনোনয়ন দিয়েছে। আপাতত দৃষ্টিতে এখানে দলীয় কোন্দল নেই তেমন, যেকারণে এখানে তেমন রাজনৈতিক উওাপ নেই। এ আসনে বিএনপির প্রার্থী হয়েছেন এ আসন থেকে একাধিকবার এমপি নির্বাচিত বিএনপি সরকারের সাবেক স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ও কেন্দীয় বিএপির সাবেক কোষাধ্যক্ষ এবং মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএপির বর্তমান আহবায়ক মিজানুর রহমান সিনহা। আর জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন আবু জার গেফারী বিশ^ বিদ্যালয়ের সাবেক বাংলা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক এ বি এম ফজলুল করিম, ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী কে এম বিল্লাল হোসেন, জাতীয় নাগরিক কমিটির মুন্সীগঞ্জ জেলা শাখার প্রধান সমন্বয়ক মাজেদুল ইসলাম মনোনয়নপত্র ক্রয় করেছন। মনোনয়ন বঞ্চিত কেউ স্বতন্ত্র প্রার্থী না হলে, মুন্সীগঞ্জ-২ আসনটি বিএনপির দখলে যাবে এটা মোটামুটি সুনিশ্চিত।
মুন্সীগঞ্জ-৩ : মুন্সীগঞ্জ সদর ও গজারিয়া উপজেলার সমন্বয়ে গঠিত মুন্সীগঞ্জ-৩ আসন। মুন্সীগঞ্জের তিনটি আসনের রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু এ আসন। এ আসনে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেনি বিএনপি। এ আসনে প্রার্থী ঘোষণায় সময় নিচ্ছে বিএনপি। ফলে প্রার্থিতা নিয়ে আসনটির সমীকরণ প্রতিনিয়তই উওেজনা সৃষ্টি করছে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে। এমতাবস্থায় মুন্সীগঞ্জ-গজারিয়ার রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছে কে পাচ্ছেন ধানের শীষ প্রতীক। প্রায় প্রতিদিনই রাতেই সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে গুঞ্জন ওঠে আগামীকাল সকালে ঘোষণা হবে মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের বিএনপির চুড়ান্ত প্রার্থী। এ আসনটিতে কয়েকজন জনপ্রিয়, হেবিওয়েট সম্ভাব্য প্রার্থী রয়েছেন। তারা হলেন- বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সমাজ কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক কামরুজ্জামান রতন, জেলা বিএনপির আহবায়ক সদস্য সচিব মোহাম্মদ মহিউদ্দিন আহম্মেদ, জেলা বিএনপির আহবায়ক সদস্য মো. মোশারফ হোসেন পুস্তি ও সাবেক তথ্যমন্ত্রী এম শামসুল ইসলামের ছেলে ইঞ্জিনিয়ার সাইফুল ইসলাম বাবু, বিএনপির জাতীয় নিবার্হী কমিটির সদস্য যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আ ক ম মোজাম্মেল হক। প্রার্থী ঘোষনা হওয়ার পরে মনোনয়ন নিয়ে এখানেও সৃষ্টি হতে পারে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের দলীয় কোন্দল। এ অবস্থায় প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকার আনাচে-কানাচে ভোটের মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন জামায়াতের প্রার্থী জগন্নাথ বিশ^বিদ্যালয়ের গনিত বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো: আবু ইউসুফ। এছাড়াও গণ্যমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ মাধ্যমের বরাতে গুঞ্জন রয়েছে এ আসনে বিএনপি ও গণাধিকার পরিষদ জোট হতে পারে। বিএনপি গণঅধিকার জোটগত সমঝোতা হলে গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতা মো: ফারুক হোসেন মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনে লড়বেন। এছাড়াও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনিত প্রার্থী মাওলানা মাহমুদুল হাসান সুমন, জাতীয় নাগরিক কমিটির গোলাম আযম আজামি এ আসন থেকে নমিনেশন জমা দিয়েছেন।
মুন্সীগঞ্জে বিএনপির একচ্ছত্র আধিপত্য দীর্ঘদিনের। মূলত এখানে বিএনপির সাথে জামায়াতের প্রতিদ¦ন্দীতা হবে। কিন্তু যদি কোন একটি আসনে বিএনপির মনোনয়ন বঞ্চিত কেউ স্বতন্ত্র প্রার্থী নিবাচন করে বিএনপির ভোট ব্যাংক ন্ষ্ট হতে পারে। এতে বেকদায় পড়ে যেতে পাড়ে ধানের শীষের প্রার্থী এবং জামাতে ইসলামীর জয় লাভ করার জন্য অনেক বড় সুযোগ হয়ে দাড়াতে পারে।
আবু সাঈদ দেওয়ান সৌরভ