কাজী: মুন্সিগঞ্জ-২ (লৌহজং–টঙ্গীবাড়ি) আসনে বিএনপি’র মনোনয়নকে ঘিরে সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ দলটির ভেতরে গভীর বিভাজনের ইঙ্গিতই বহন করে। অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ মনোনীত হওয়ার পর তাঁর সমর্থকদের গতিশীলতা যেমন স্পষ্ট, তেমনি প্রশ্নের মুখে পড়ছে এই কর্মকাণ্ডের উদ্দেশ্য ও প্রক্রিয়া।
রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের অভিযোগ—এই মনোনয়ন “দলীয় আদর্শের চেয়ে প্রভাবশালীদের সুপারিশ-নির্ভর”, এবং একসময়ের আলোচিত নেতা মিজানুর রহমান সিনহার অসুস্থতাকে কেন্দ্র করে তার সমর্থকদের কোণঠাসা করার প্রচেষ্টা এখন প্রকাশ্য রূপ নিচ্ছে।
অবশ্য সালাম আজাদপন্থীদের দাবি ভিন্ন। তাদের বক্তব্য, সাংগঠনিক সুস্থতা ফিরিয়ে আনার জন্যই এই ‘পুনর্গঠন’। প্রশ্ন হচ্ছে—পুনর্গঠন কি সমমর্যাদা ও আলোচনার মাধ্যমে হচ্ছে, নাকি চাপ প্রয়োগ ও একপক্ষকে অকার্যকর করে দেওয়ার কৌশলে?
রাজনীতিতে প্রতিযোগিতা অস্বাভাবিক নয়; বরং নেতৃত্বের বিকাশে এটি স্বাভাবিক ধারা। কিন্তু প্রতিযোগিতা যখন প্রতিহিংসার দিকে গড়ায়, তখন তা কেবল ব্যক্তি বা গ্রুপের ক্ষতি করে না; দলীয় সক্ষমতাকেও দুর্বল করে।
বিএনপি যে সময়টিতে জাতীয় রাজনীতিতে শক্ত অবস্থান গড়ার চেষ্টা করছে, সেই সময়েই অভ্যন্তরীণ সংঘাত দলের জন্য বড় প্রতিবন্ধকতা হতে পারে—এ নিয়ে সংশয় প্রকাশ করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরাও।
বর্তমান চিত্রে তিনটি প্রশ্ন সুস্পষ্টভাবে উঠে আসে—
মনোনয়নের প্রক্রিয়াটি কি স্বচ্ছ ছিল?
দলে সমান সুযোগ ও ন্যায্য প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র কি বজায় রয়েছে?
নেতৃত্বের পরিবর্তন কি ঐক্যের মাধ্যমে, নাকি বিভাজনের বিনিময়ে?
এই প্রশ্নগুলোর উত্তর শুধুই রাজনৈতিক বক্তব্যে নয়—বরং মাঠ পর্যায়ে ভাঙনের বাস্তবতা ও পুনরুদ্ধারের উদ্যোগে খুঁজে নিতে হবে।
মিজানুর রহমান সিনহা অসুস্থ—এটি রাজনৈতিক ব্যবস্থার বাস্তব চ্যালেঞ্জ; কিন্তু একজন নেতার পরীক্ষাকাল অন্যজনের উত্থানের সিড়ি হয়ে উঠলে তা নৈতিকতার জায়গায় আঘাত হানতে বাধ্য।
আবার, সালাম আজাদ যদি সত্যিই জনগণের আস্থার প্রতীক হয়ে থাকেন—তবে তা প্রমাণের পথ বিরোধীকে চাপা দেওয়া নয়, বরং গণমানুষের আস্থা অর্জনেই নিহিত।
দিনশেষে, লৌহজং–টঙ্গীবাড়ী আজ কেবল মনোনয়ন-প্রাপ্ত ব্যক্তির নামেই আলোচিত নয়—বরং বিএনপি’র সাংগঠনিক দিশা ও চরিত্র নিয়ে উদ্বিগ্ন সাধারণ কর্মীদের প্রশ্নেই আলোচিত। সেই প্রশ্নগুলোর উত্তর না এলে নির্বাচনী মাঠ যেমন অনিশ্চিত থাকবে, তেমনি দলের ভবিষ্যতও আরও দুর্বল হয়ে পড়বে।
রাজনীতি শেষ পর্যন্ত মানুষের জন্য।
কিন্তু প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে—এখানে কি মানুষ আছে, নাকি কেবল নাম-পরিবর্তনশীল ক্ষমতার সমীকরণ?