আবু সাঈদ দেওয়ান সৌরভ মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি: ভোজন রসিক বাঙালির সুনাম পুরো পৃথিবীজুড়ে রয়েছে। ঋতুভেদে ভিন্ন ভিন্ন খাবারের প্রচলন বাঙালির ঐতিহ্যের সঙ্গে মিশে আছে। অঞ্চলভেদে সুস্বাদু খাবারের প্রচলন সেই আদিকাল থেকেই। শুধুমাত্র খাবারের ভিন্নতা ও স্বারে দিক বিবেচনায়ও পরিচিতি পায় বিভিন্ন এলাকা। কুয়াশার চারে মোড়ানো শীতে বাঙালির জনপ্রিয় খাবারের অন্যতম—হাঁস। সুস্বাদু মাংসের জন্য হাঁসের প্রতি মানুষের আগ্রহ বহুদিনের। শীতের মৌসুম এলেই মুন্সীগঞ্জের বিভিন্ন হাট-বাজার গুলোতে জমে ওঠেছে নানান প্রজাতির হাঁস বেঁচা-কেনায়।
মুন্সীগঞ্জে শীতের মৌসুমে হাঁসের কদর, নানান জাতের হাঁসে বাজার সয়লাব। মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ী উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজার ও সড়কের পাশে হাঁস ও হাঁসের ডিম বিক্রির ধুম পড়ে যায়। বিশেষ করে সাপ্তাহিক হাটের দিন হাঁসের প্যাঁক প্যাঁক শব্দে মুখর হয়ে ওঠে পুরো বাজার এলাকা। শরীরে বাড়তি উষ্ণতা পাওয়ার আশায় অনেকেই শীতকালে শখ করে হাঁসের মাংস ও ডিম খান। ফলে এ সময় হাঁস ও হাঁসের ডিমের দাম স্বাভাবিকের তুলনায় কিছুটা বেড়ে যায়।
শুক্রবার (২রা জানুয়ারি) সকাল ৮ টার দিকে সরেজমিনে টঙ্গীবাড়ী উপজেলার বালিগাঁও বাজারের পাশে সাপ্তাহিক হাট ঘুরে দেখা যায়,
হাঁস ক্রয়-বিক্রয়ের জন্য মাতৃসদনের পাশে এবং বাজারের সামনে হাঁস-মুরগি কবুতরের জন্য নির্দিষ্ট স্থান রয়েছে। হাটের দিন সকাল েেক দুপুর ২টা পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের নারী-পুরুষ ও কিশোররা এবং বিভিন্ন এলাকা েেক
তারে পরিবারের পালন করা হাঁস বিক্রির জন্য নিয়ে আসেন। এসব হাঁসের মধ্যে রয়েছে দেশি পাতিহাঁস, চীনাহাঁস ও রাজহাঁস। দূর-ূরান্ত থেকেও ক্রেতারা এই হাটে হাঁস কিনতে আসেন।
ক্রেতা আব্দুল দেলোয়ার হোসেন বলেন, গরু, ছাগল ও মুরগির মাংস সারা বছরই খাওয়া হয়। কিন্তু শীত এলেই হাঁস খাওয়ার ইচ্ছা জাগে। হাঁসের মাংস শীতে খেতে ভালো লাগে, শরীরের ঠান্ডা ভাবও কিছুটা কমে।
ক্রেতা মো. ইউসুফ ঢালী বলেন, শীতকালই হাঁসের মাংস খাওয়ার উপযুক্ত সময়। এ সময় হাঁসের মাংসের স্বাদ কয়েকগুণ বেড়ে যায়, দাম একটু বেশি হলেও কিনতেই হয়।
হাঁস বিক্রেতা মো. ইয়াসিন মিয়া জানান, শীত শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে হাঁসের চাহিদা বেড়েছে। বর্তমানে হাঁস ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। অন্য বাজারের তুলনায় এখানে দাম কিছুটা কম।
বিক্রেতা মো. রাকিব হাসান বলেন, শীত এলেই হাঁসের মাংসের চাহিদা সবচেয়ে বেশি থাকে। দেশি হাঁস ৪০০-৬০০ টাকা, চীনাহাঁস
৬০০ থেকে ১ হাজার টাকা এবং রাজহাসের দাম একটু বেশি বিক্রি হচ্ছে।
বালিগাও বাজার বণিক সমিতির একজন কর্মকর্তা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এই বাজারে হাঁস-মুরগির হাট বসছে। শীতকালে মানুষের আগ্রহ আরও বেড়ে যায়, যা আমাদের জন্যও আনন্দের।
উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা বলেন, হাঁসের মাংস িেরতে হজম হয় এবং কফ বাড়ায়। তবে চোখের ছানি ও স্বরভঙ্গ রোগে উপকারী। হাঁসের মাংসে এলডিএল কোলেস্টেরল থাকায় হৃরোগীদের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। তবুও শীতকালে হাঁসের মাংস খাওয়া এখন এক ধরনের অঘোষিত রেওয়াজে পরিণত হয়েছে।