কাজী :সড়ক দখল করে অবৈধ ড্রেজার পাইপে বাড়ছে জন দুর্ভোগ, বাড়ছে দূর্ঘটনার ঝুঁকি, ভরাট হচ্ছে এলাকার সরকারি খাল, পুকুর, ফসলি জমি। চোখের সামনে এমন ঘটনা প্রতিনিয়ত ঘটলেও নির্বিকার প্রশাসন।

মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার মূল রাস্তাসহ বিভিন্ন এলাকায় অবৈধভাবে রাস্তায় ড্রেজারের পাইপ লাগিয়ে জনগণ ও যানবাহন চলাচলে বাঁধা সৃষ্টি করা হয়েছে। এতে করে জনগণের ও যানবাহনের নিরাপদ চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। ভারি মালামালবাহী যানবাহন, বাইসাইকেল, মটর সাইকেল ছাড়াও প্রায় সব ধরনের যানবাহনের চলাচলে মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটছে। এসব পাইপের কারণে দূর্ঘটনা ঘটার সম্ভবনা বেড়েছে কয়েকগুন। আমাদের দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী জনগণের চলাচলের অধিকারকে ক্ষুণ্ণ করার অপরাধে এটি একটি গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়। সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ অনুযায়ী চলাচলে বাঁধা সৃষ্টি করলে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড উভয়ই হওয়ার বিধান রয়েছে। অথচ এসব রাস্তা দিয়ে প্রশাসনের লোকজন প্রায় নিয়মিত চলাচল করলেও অদৃশ্য কারণে কোন পদক্ষেপ গ্রহন করে না।
এছাড়াও অবৈধ ড্রেজারের পাইপের সংযোগের কারণে এলাকার খাল, পুকুর, ফসলি জমি ভরাট হচ্ছে প্রতিনিয়ত। যার কারণে বর্ষা মৌসুমে মারাত্মক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হবে। এসব অবৈধ ড্রেজারের পাইপের কারণে চলাচলে বিঘ্ন ঘটানো কিংবা বিনা অনুমতিতে জমির শ্রেণির পরিবর্তন করা হলেও প্রশাসন নির্বিকার।

আমাদের দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী,
জনগণের চলাচলের রাস্তায় বিঘ্ন ঘটানো একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ, যার জন্য ফৌজদারি কার্যবিধি (CrPC) ধারা ১৩৪ অনুযায়ী এক বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড বা জরিমানা অথবা দ্রুত বিচার আইন-এর আওতায় সাত বছরের কারাদণ্ড পর্যন্ত হতে পারে। এছাড়াও আইন-শৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ (দ্রুত বিচার) আইন, ২০০২: রাস্তা অবরোধ বা যান চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করলে এই আইনের অধীনে সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার পঞ্চসার ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় সরকারি মেইন রাস্তার উপর দিয়ে কয়েক ফুট উঁচু করে ড্রেজারের পাইপ নেওয়া হয়েছে। কোন কোন জায়গায় রাস্তা কেটে নিচ দিয়ে পাইপ নেওয়া হয়েছে। মেইন রাস্তা বাদেও এলাকার বিভিন্ন পয়েন্টে মানুষের বাড়ির সামনে মাটি দিয়ে উঁচু করে পাইপ নেওয়া হয়েছে এক এলাকা থেকে আরেক এলাকায়। বিশেষ করে ফিরিঙ্গি বাজার, সরকার পাড়া, মালির পাথর, আদিরাতলা, ডিঙাভাংঙ্গা, বাইন্না বাড়ি বা বনিক্য পাড়া, বল্লাল বাড়ি এলাকার বিভিন্ন পয়েন্টে ড্রেজারের পাইপ দিয়ে বাঁধা সৃষ্টি করা হয়েছে। মূল রাস্তাসহ বাড়ির সামনের রাস্তা ও শিল্প প্রতিষ্ঠানের সামনে এক ফুট থেকে কয়েক ফুট উঁচু করে মাটি উঁচু করে পাইপ নেওয়া হয়েছে। এছাড়াও রামপাল ইউনিয়নের বেশ কিছু স্থানে রাস্তার উপর দিয়ে ও নিচ দিয়ে ড্রেজারের পাইপ নেওয়া হয়েছে।
এসব পাইপ কারা স্থাপন করেছে তা জানলেও এলাকাবাসী ব্যবসায়ীরা ভয়ে বলতে নারাজ।

ফিরিঙ্গি বাজার মসজিদের সামনের একজন ব্যবসায়ী জানান, মুক্তারপুর নদীর পাড়ের এ রাস্তাটি চলাচল ও ব্যবসায়ীদের জন্য অতন্ত্য গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু কয়েক মাস যাবৎ রাস্তার উপরে ড্রেজারের মোটা পাইপ দিয়ে রাস্তা উঁচু করে রাখা হয়েছে। মাঝে মধ্যেই মালবাহী ভ্যান উল্টে যাচ্ছে। ছোট ছোট গাড়ি গুলোর চলাচলের অসুবিধা হচ্ছে। এই রাস্তা দিয়ে প্রশাসনের লোকজন সব সময় চলাচল করে কিন্তু দেখার কেউ নাই।
বাইন্না বাড়ি ( বনিক্য পাড়া) মসজিদের একজন মুসল্লী জানান, আমাদের মসজিদের ঢোকার মুখেই কয়েক ফুট উঁচু করে ড্রেজারের পাইপ দিয়ে দিছে। মসজিদে ঢোকার সময় ভয় লাগে, এই বুঝি গাড়ি উল্টে যায়। পাশেই প্রাইমারি স্কুল ও মেইন রাস্তা আর একটা এলাকার মোড়। যে কোন সময় বড় দূর্ঘটনা ঘটবে।
সরকার পাড়া খাঁ বাড়ি এলাকার একজন বাসিন্দা জানান, আমাদের খাঁ বাড়ির একবারে মোড়ের মধ্যে ড্রেজারের পাইপ দিয়ে উঁচু করে দেওয়া হয়েছে। দুই দিন আগেও দুইটা মিশুক একসাথে পার হতে গিয়ে একটা উল্টে গেছে।
নিরাপদ সড়ক চাই সংগঠনের একজন সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এগুলো স্থানীয় এলাকার ছেলে ও নেতাদের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। নানা অসুবিধা হলেও কেউ তাদের কিছু বলতে পারে না। এই পাইপ গুলোর কারণে চলাচল ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। এছাড়াও বিভিন্ন এলাকার সরকারি খাল, পুকুর ভরাট হচ্ছে। প্রশাসনের দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
এ বিষয়ে সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মারজানা আক্তার বলেন, এ বিষয়ে আমার জানা নেই। আপনি লোকেশনের ছবি ও ভিডিও করে পাঠান, আমরা ব্যবস্থা নিবো।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুদুর রহমান জানান, ইউনিয়ন পরিষদ গুলোতে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। জনগণের চলাচলের ভোগান্তি দূর করতে প্রশাসন সব সময় তৎপর রয়েছে।
প্রশাসন দ্রুত চলাচলের রাস্তা থেকে সব ধরনের ড্রেজারের পাইপ অপসারণ করে মানুষ ও যানচলাচল নিরাপদ করবে এবং খাল, পুকুর, ফসলি জমি ভরাট হতে রক্ষা করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে এমনটাই প্রত্যাশা।