কাজী :মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রশাসনের চোখের সামনেই অবাধে চলছে অবৈধ ড্রেজার বাণিজ্য| ড্রেজার ও বাল্কহেডের মাধ্যমে নদী-খাল থেকে বালু উত্তোলন করে কৃষিজমি ভরাট ও জমির শ্রেণি পরিবর্তনের অভিযোগ উঠেছে| এতে একদিকে দ্রুত কমে যাচ্ছে আবাদযোগ্য জমি, অন্যদিকে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি নদীতীরবর্তী এলাকায় ভাঙনের ঝুঁকি বাড়ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের|
সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার কাঠাদিয়া-শিমুলিয়া (কে-শিমুলিয়া) ইউনিয়ন ও যশলং ইউনিয়নের সামনের খালে প্রকাশ্যে ড্রেজারের মেশিন ও পাইপ বসিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে| স্থানীয়দের ভাষ্য, পিন্টু নামে এক ব্যক্তির নেতৃত্বে একটি সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে এসব কার্যক্রম পরিচালনা করছে|

এছাড়া পুরা বাজার, বাঘিয়া, টঙ্গীবাড়ী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ের পাশসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন ও কৃষিজমি ভরাটের কাজ চলছে বলে অভিযোগ রয়েছে|
স্থানীয়দের দাবি, এসব কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সংশ্লিষ্টদের কোনো ˆবধ অনুমোদন নেই| এরপরও প্রভাবশালী একটি চক্র প্রকাশ্যে ড্রেজার ব্যবহার করে কৃষিজমি ভরাট ও বালু ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে|
অভিযোগ রয়েছে, সোনারং এলাকায় শাহজাহান নামে এক ব্যক্তি উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ের সামনের একটি স্থানে ড্রেজারের মাধ্যমে ফসলি জমি ভরাট করছেন| এছাড়া পুরা বাজার ও আশপাশের এলাকায় নয়াদ্দার আনোয়ার, রানা, যশলং এলাকার সবুজ, দরজারপাড়ের মো. আসা, মো. ভুট্টু ও তার দুই ভাইসহ কয়েকজন ব্যক্তি ড্রেজার ব্যবহার করে কৃষিজমি ভরাটের সঙ্গে জড়িত রয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা|
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বাসিন্দা জানান, ড্রেজার ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা প্রকাশ্যে দাবি করেন, প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরকে ‘ম্যানেজ’ করেই তারা দীর্ঘদিন ধরে এ ব্যবসা পরিচালনা করছেন| ফলে অভিযোগ করেও কোনো কার্যকর প্রতিকার পাওয়া যাচ্ছে না| যদিও এ দাবির ¯^াধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি|
স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্য, যে জমিতে বছরের পর বছর ধান, পাট ও বিভিন্ন মৌসুমি ফসল উৎপাদিত হতো, সেই আবাদি জমিতে এখন বালু ফেলে ভরাট করা হচ্ছে| এতে কৃষি উৎপাদন হুমকির মুখে পড়ার পাশাপাশি জীববৈচিত্র্য, পরিবেশ ও প্রাকৃতিক ভারসাম্যের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ছে| নদী ও খালের ¯^াভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় ভবিষ্যতে নদীভাঙন ও জলাবদ্ধতার ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা|
এ বিষয়ে অভিযুক্ত পিন্টুর সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “সামনে আসেন, কথা বলি|” তবে অবৈধ ড্রেজার পরিচালনার অভিযোগের বিষয়ে তিনি সরাসরি কোনো ব্যাখ্যা দেননি|
টঙ্গীবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাহমিনা আক্তার বলেন, “বিষয়টি আমার নজরে এসেছে| খোঁজখবর নিয়ে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে|”
এদিকে এলাকাবাসীর দাবি, অবৈধ ড্রেজার বাণিজ্য, কৃষিজমি ভরাট ও অবৈধ বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে| একই সঙ্গে ফসলি জমি রক্ষা, পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখা এবং নদী-খাল রক্ষায় সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা|