ঢাকা মহানগরী দক্ষিণে ৫ প্রার্থী পেলেন দাঁড়িপাল্লা প্রতীক

অনলাইন ডেস্কঢাকা মহানগরী দক্ষিণে ৫ প্রার্থী পেলেন দাঁড়িপাল্লা প্রতীক,আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার লক্ষ্যে ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ এলাকার ৭টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ৫টিতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত ৫ জন প্রার্থী দাঁড়িপাল্লা প্রতীক পেয়েছেন।

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার লক্ষ্যে ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ এলাকার ৭টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ৫টিতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত ৫ জন প্রার্থী দাঁড়িপাল্লা প্রতীক পেয়েছেন। নির্বাচন কমিশন কর্তৃক ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী বুধবার (২১ জানুয়ারি) প্রতীক বরাদ্দের ধার্য দিনে ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার ও রির্টানিং অফিসার শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী সকল প্রার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেন। সভা শেষে তিনি প্রতীক বরাদ্দ করেন।

রিটার্নিং অফিসার কর্তৃক প্রতীক বরাদ্দে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক পেয়েছেন ঢাকা-৪ আসনে ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের কর্মপরিষদ সদস্য সৈয়দ জয়নুল আবেদীন, ঢাকা-৫ আসনে কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি মোহাম্মদ কামাল হোসেন, ঢাকা-৬ আসনে কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি ড. মুহাম্মদ আব্দুল মান্নান, ঢাকা-৭ আসনে বিশিষ্ট ব্যবসায়ী নেতা হাজী হাফেজ এনায়েত উল্লাহ এবং ঢাকা-১০ আসনে কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য এডভোকেট মো. জসীম উদ্দীন সরকার। অপর দুটি আসনে ১০ দলীয় জোট ‘ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ’ সমর্থিত ২ প্রার্থী শাপলা কলি প্রতীক পেয়েছেন। তাঁরা হচ্ছেন ঢাকা-৮ আসনে এনসিপি নেতা নাসিরউদ্দীন পাটোয়ারী ও ঢাকা-৯ আসনে জাবেদ মিয়া রাসিন।

শেরপুর তিনটি আসনে ভোটের লড়াই জমে উঠেছে

শেরপুর সীমান্তবর্তী একটি গুরুত্বপূর্ণ জেলা। চলমান জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মাঠে না থাকায় জেলার তিনটি আসনেই ভোটের লড়াই এখন মূলত বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও বিএনপি

মোঃ জাকির হোসেন, শেরপুর : শেরপুর সীমান্তবর্তী একটি গুরুত্বপূর্ণ জেলা। চলমান জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মাঠে না থাকায় জেলার তিনটি আসনেই ভোটের লড়াই এখন মূলত বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও বিএনপি প্রার্থীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। এতে করে শেরপুরে নির্বাচনী উত্তাপ দিন দিন বাড়ছে।

শেরপুর ১ (সদর)

এই আসনে জামায়াত মনোনীত এমপি প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র শিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি হাফেজ মোঃ রাশেদুল ইসলাম রাশেদ। তিনি ভোটের মাঠে ব্যাপক গণসংযোগের মাধ্যমে জনগণের মধ্যে ইতোমধ্যে ভালো গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করেছেন।

অপরদিকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন সানজিলা প্রিয়াঙ্কা। এছাড়া শেরপুর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও জেলা যুবদলের সভাপতি শফিকুল ইসলাম মাসুদ বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন।

শেরপুর ২ (নালিতাবাড়ী নকলা)

নালিতাবাড়ী ও নকলা উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসনে জামায়াতের প্রার্থী বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের ময়মনসিংহ মহানগরীর সাবেক সভাপতি ও শেরপুর জেলা জামায়াতের প্রচার ও মিডিয়া সেক্রেটারি মোঃ গোলাম কিবরিয়া। বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছেন ফাহিম চৌধুরী।

শেরপুর ৩ (শ্রীবরদী ঝিনাইগাতী)

এই আসনে জামায়াত মনোনীত এমপি প্রার্থী শেরপুর জেলা ইসলামী ছাত্র শিবিরের সাবেক সভাপতি ও শেরপুর জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আলহাজ্ব মোঃ নুরুজ্জামান বাদল।

তিনি তৃণমূল থেকে উঠে আসা একজন জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব এবং তাতিহাটী আইডিয়াল স্কুলের একজন আদর্শ প্রধান শিক্ষক হিসেবে পরিচিত। দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকায় ভোটারদের মধ্যে তার অবস্থান শক্তিশালী বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন শেরপুর জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মাহমুদুল হক রুবেল।

জামায়াতের আশাবাদ শেরপুর জেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা মোঃ হাফিজুর রহমান বলেন, “শেরপুর জেলার তিনটি আসনেই বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর এমপি প্রার্থীরা বিজয়ী হয়ে আসবেন ইনশাআল্লাহ।

লালমনিরহাটের ১ ও ২ আসন জামায়াতের দখলে সদর আসনে জামায়াত ও বিএনপি হাড্ডা-হাড্ডি লড়াই হবে

লালমনিরহাটের ৩টি সংসদীয় আসনে প্রার্থী ঘোষণার পর থেকেই গণসংযোগ করে আসছিল বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। লালমনিরহাট ১ ও ২ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ৫ বছর পূর্ব থেকেই স্ব-স্ব এলাকায় জনগণের মাঝে বিভিন্ন সাহায্য সহযোগিতা

মোঃ লাভলু শেখ লালমনিরহাট : লালমনিরহাটের ৩টি সংসদীয় আসনে প্রার্থী ঘোষণার পর থেকেই গণসংযোগ করে আসছিল বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। লালমনিরহাট ১ ও ২ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ৫ বছর পূর্ব থেকেই স্ব-স্ব এলাকায় জনগণের মাঝে বিভিন্ন সাহায্য সহযোগিতা ও জনগণের সুখে-দুঃখে পাশে থাকায় আসন ২টিতে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন। লালমনিরহাট সদর-৩ আসনে সাবেক উপমন্ত্রী ও জেলা বিএনপির সভাপতি আসাদুল হাবিব দুলু কিছু দৃশ্যমান কাজ করেছিলেন। সেগুলো সামনে এনে ব্যাপক জনসংযোগ করছিলেন। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী ও জেলা আমীর এডভোকেট আবু তাহের ব্যাপক গণসংযোগ করে অল্প সময়ে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন। তফসিল ঘোষণার পর থেকে জামায়াত ও বিএনপি প্রার্থী উঠান বৈঠক চালিয়ে আসছেন। বিএনপির মনোনীত প্রার্থী দুলুর সাথে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী এডভোকেট আবু তাহেরের ভোটের মাঠে হাড্ডা-হাড্ডি লড়াই হবে বলে এ আসনের ভোটাররা জানিয়েছে। তবে সদর-৩ আসনে ভোটাররা নতুন মুখ হিসেবে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী এডভোকেট আবু তাহেরকেই চাইবেন বলে ভোটাররা জানান।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, জাতীয় পার্টি, বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি, গণসংহতি আন্দোলন ও জনতার দল একটি করে আসনে নির্বাচনের লড়াই করবেন। তবে সামগ্রিকভাবে এদের তৎপরতা কম লক্ষ্য করা গেছে। একসময়ে জাতীয় পার্টির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত লালমনিরহাটের সব আসন তাদের দখলে ছিল। বিশেষ করে লালমনিহাট-৩ আসন থেকে একাধিকবার সংসদ সদস্য (এমপি) হয়েছেন, জাপা চেয়ারম্যান জিএম কাদের। গত ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পটপরিবর্তন এরপর জেলা জাপার কার্যালয়ে হামলা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। মামলা হয়েছে তাদের শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে। এমন পরিস্থিতিতে লালমনিরহাট জেলায় দলটির তৎপরতা ছিল না বললেই চলে। তবে তফসিল ঘোষণার পর জাপা নেতাদের তৎপরতা হতে দেখা যাচ্ছে। জেলা জাপার সাধারণ সম্পাদক দলের চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মোহাম্মদ জাহিদ হোসেনকে লালমনিরহাট সদর-৩ আসনে এবং লালমনিরহাট-১ আসনে মশিউর রহমান (রাঙ্গা), লালমনিরহাট-২ আসনে জাপার চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা এলান উদ্দিনকে মনোনয়ন দিয়েছে। লালমনিরহাট-১ (পাটগ্রাম-হাতীবান্ধা)

সীমান্তবর্তী ২ উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসনে ১৯৭৯ সালের নির্বাচন ছাড়া কখনো জিততে পারেনি বিএনপি। ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালে এবং ২০০১ সাল থেকে টানা জয় পায় আওয়ামী লীগ (বর্তমানে দলটি নিষিদ্ধ ঘোষিত)২০০৮ সালের নির্বাচনে জামায়াতের প্রার্থী মাওলানা হাবিবুর রহমান ৭৪ হাজারের বেশি ভোট পেয়ে দ্বিতীয় হয়েছিলেন। এবার আসনটিতে লড়াই করবেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার হাসান রাজিব প্রধান। ভোটাররা জানান, তিনি ঢাকায় আইনজীবী পেশায় নিয়োজিত থাকায় এলাকায় তেমন জনপ্রিয়তা নাই বললেই চলে। এ আসনটিতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী ঢাকা মহানগর উত্তরের মজলিসের শূরা সদস্য ও কেন্দ্রীয় ব্যবসায়িক বিভাগের সহ-সভাপতি পাটগ্রাম ও হাতীবান্ধা অঞ্চলের জনপ্রিয় নেতা মো. আনোয়ারুল ইসলাম রাজু প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। ভোটাররা জানান, তিনি জনসেবামূলক কার্যক্রম করায় এলাকায় ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন। ওই আসনের ভোটাররা আরও জানায়, যোগ্য নেতৃত্ব, দক্ষ ও সৎ, নিষ্ঠাবান ব্যক্তি হওয়ায় নতুন কিছু সম্ভাবনার জন্য নতুন মুখ হিসেবে বিশিষ্ট সমাজসেবক রাজু কে এ আসনে নির্বাচিত করার আশা প্রকাশ করেছেন। এ আসনে এনসিপির কেউ নেই। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মুফতি আবুল কাশেম, ইসলামী আন্দোলনের ফজলুল করিম ও এবি পার্টির মোহাম্মদ আবু রাইয়ান প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।

লালমনিরহাট-২ (আদিতমারী-কালিগঞ্জ)

স্বাধীনতার পর ১৯৭৩ সালের নির্বাচনে এ আসনে এমপি হয়েছিলেন করিম উদ্দিন আহমেদ। পরে ১৯৭৯ সালে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হন মজিবুর রহমান। পরে তিনি দল পরিবর্তন করে জাপার হয়ে ১৯৮৬ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত প্রতিটি নির্বাচনে জয়লাভ করেন তিনি। ২০১৪ সালে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ও পরবর্তী পর পর ২টা নির্বাচনে জয়লাভ করেন করিম উদ্দিন এর ছেলে সাবেক সমাজকল্যাণ মন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ। (বর্তমান নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কালিগঞ্জ উপজেলা সভাপতি)। তিনি বিভিন্ন মামলায় গ্রেফতার হয়ে, কারাগারে বন্দী রয়েছেন। এ আসনটিতে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন, বাংলাদেশে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী ও জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি এডভোকেট মো. ফিরোজ হায়দার লাভলু। এ আসনে সুষ্ঠু ও নিরপক্ষ নির্বাচন হলে জয়ের মালা তারই হবে বলে ভোটাররা জানিয়েছে। এ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ও জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি রুকন উদ্দিন বাবুল ও কালিগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. জাহাঙ্গীর আলম মারাত্মক গ্রুপিং চলছে। বিএনপির এই ২ নেতার গ্রুপিং চলমান থাকায় আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির এ প্রার্থীর ভোটের মাঠে জয়লাভ করাটা কঠিন হবে বলে ভোটাররা জানিয়েছে। এ আসনে এন সিপির কেউ নেই এছাড়া গণসংহতি আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সম্পাদক মণ্ডলীর সদস্য দীপক কুমার রায়, ইসলামী আন্দোলনের মুফতি মাহফুজুর রহমান ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মুফতি আব্দুল হান্নান এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।

লালমনিরহাট-৩ (সদর)

লালমনিরহাট জেলার গুরুত্বপূর্ণ এ আসনে ১৯৯১ সালের পর বিএনপি একবার, আওয়ামী লীগ দুইবার জাপার প্রার্থীরা চারবার জয়লাভ করেছে। আসাদুল হাবিব দুলু বিএনপি সরকারের আমলে উপমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এ আসনে এবারও তাকে বিএনপি মনোনয়ন দিয়েছে। আসাদুল হাবিব দুলু কেন্দ্রীয় বিএনপির রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও লালমনিরহাট জেলা বিএনপির সভাপতি। এ আসনে লড়াই করবেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী জেলা জামায়াতের আমীর এডভোকেট আবু তাহের। এ আসনে জামায়াত ও বিএনপি হাড্ডা-হাড্ডি লড়াই হবে বলে ভোটাররা জানান। ভোটাররা আরও জানান, বিএনপির ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন না করা, জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক হাফিজুর রহমান বাবলার সাথে গ্রুপিং, জেলা বিএনপিকে পারিবারিক দলে পরিণত এবং একনায়কতন্ত্র শাসন করার কারণে এ আসনে দুলুর জয়লাভ করাটা কঠিন হবে বলে ভোটাররা জানিয়েছে। সুষ্ঠু ও নিরপক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে এ আসনেও জামায়াতের প্রার্থী আবু তাহের -এর জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ এ আসনের নতুন মুখ হিসেবে আবু তাহেরকেই ভোট দিয়ে জয়লাভের কথা জানিয়েছে ভোটাররা। এ আসনে এনসিপির প্রার্থী নেই। এবি পার্টির ঢাকা মহানগরের সহ-সভাপতি মো. ফিরোজ কবির, খেলাফত মজলিসের মাওলানা ইসমাইল হোসেন, ইসলামী আন্দোলনের মো. মোকসেদুল ইসলাম, সিপিবির জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মধুসূদন রায় এবং জাপার মো. জাহিদ হাসান সহ ১,২ ও ৩ আসনে মোট ২৬ জন প্রার্থী লড়াই করবেন বলে জানা গেছে। লালমনিরহাট জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে,

লালমনিরহাট জেলার ৩টি সংসদীয় আসনে মোট ভোটার ১১ লাখ ৪৪ হাজার ৪৯৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৫ লাখ ৭৪ হাজার ৬৭ জন, নারী ৫ লাখ ৭০ হাজার ৪২২ জন এবং হিজড়া ভোটার ৭ জন।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের ৩ টি সংসদীয় আসনে মূল লড়াই হবে জামায়াতে ইসলামী ও বিএনপির মধ্যে

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩ টি আসনেই জামায়াতের মূল প্রতিদ্বন্দ্বী হবে বিএনপি। এ আসনগুলোতে জামায়াতে ইসলামী অনেক আগেই তাদের প্রার্থী ঘোষণা করে প্রচারণার কাজ এগিয়ে রেখেছে।

মোঃ আশরাফুল আলম সিদ্দিকী কাজল, চাঁপাইনবাবগঞ্জ : আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩ টি আসনেই জামায়াতের মূল প্রতিদ্বন্দ্বী হবে বিএনপি। এ আসনগুলোতে জামায়াতে ইসলামী অনেক আগেই তাদের প্রার্থী ঘোষণা করে প্রচারণার কাজ এগিয়ে রেখেছে। বিএনপির একাধিক প্রার্থী না থাকলেও প্রার্থিতা নিয়ে দলের মধ্যে মতানৈক্য রয়েছে। মনোনয়ন বঞ্চিতরা প্রার্থিতা না হওয়ায় তারা নীরব ভূমিকা পালন করার সম্ভাবনা রয়েছে বলে ধারণা করছেন অনেকেই। দিন যত যাচ্ছে তাদের মধ্যে দূরত্ব তত বাড়ছে। বিশেষ করে ৩টি আসনে বিএনপির প্রার্থী নিয়ে দলের মধ্যে বিভক্তি দেখা দিয়েছে।

জানা গেছে, ৫টি উপজেলা নিয়ে গঠিত চাঁপাইনবাবগঞ্জের ৩টি আসন। এখানে প্রথম দফায় ধানের শীষের কাণ্ডারির নাম ঘোষণা করে বিএনপি। তারা নানান কর্মসূচি নিয়ে জনগণের কাছে যাচ্ছেন, দিচ্ছেন বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি। আর জামায়াত প্রায় বছরখানেক আগে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করায় ইতোমধ্যে তারা ভোটের মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী হিসেবে যাচ্ছেন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে। এছাড়া ইসলামি আন্দোলন, গণঅধিকার পরিষদ ও জাতীয় পার্টি (জাপা) ও কমিউনিস্ট পার্টির প্রার্থীরা নির্বাচন কার্যক্রমে নেই বললেই চলে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ (শিবগঞ্জ) আসনে জামায়াত প্রার্থী ড. মোঃ কেরামত আলী, বিএনপি প্রার্থী অধ্যাপক শাহজাহান মিঞা, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তি জোটের প্রার্থী মোঃ আব্দুল হালিম, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের প্রার্থী নবাব মোঃ শামসুল হোদা ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মোঃ মনিরুল ইসলাম। এ আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী মোহাঃ আফজাল হোসেনের সম্পদের গরমিল থাকায় প্রার্থিতা বাতিল করা হয়েছে। তবে জামায়াত ও বিএনপির প্রার্থী ছাড়া অন্য দলের প্রার্থীরা এখনো প্রচারণায় নেই। ১৫টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা নিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ সংসদীয় আসন গঠিত। এ আসনে ৪ লাখ ৯৬ হাজার ৭১ জন ভোটার। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৫৩ হাজার ২৩৮ এবং মহিলা ভোটার ২ লাখ ৪২ হাজার ৮৩৩ জন। এ আসনে ভোটাররা নতুন মুখ দেখতে চাচ্ছেন। এর আগে একটি দলের প্রার্থী ৪ বার জয়ী হলেও তিনি এই এলাকার দৃশ্যমান উন্নয়ন ঘটাতে পারেননি। এমনকি সোনামসজিদ স্থলবন্দরকে কাস্টমস হাউজে রুপান্তরিত করতে কোন ভূমিকা রাখেননি। ফলে এবার ভোটাররা আশায় বুক বেঁধেছেন যোগ্যপ্রার্থী হিসেবে সাবেক জনপ্রিয় উপজেলা চেয়ারম্যান ও জামায়াতের কেরামত আলীকে ভোট দেওয়ার জন্য।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ (নাচোল-গোমস্তাপুর-ভোলাহাট) আসনে রয়েছে জামায়াত প্রার্থী ড. মু. মিজানুর রহমান, বিএনপি প্রার্থী মোঃ আমিনুল ইসলাম, সিপিবি’র প্রার্থী মোঃ সাদেকুল ইসলাম ও ইসলামী আন্দোলন বংলাদেশের প্রার্থী মোঃ ইব্রাহিম খলিল। এ আসনে দ্বৈত নাগরিকত্ব এবং তথ্য ঘাটতি থাকায় মু. খুরশিদ আলম বাচ্চুর মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। তবে, জামায়াত ও বিএনপির প্রার্থী ছাড়া অন্য প্রার্থীরা মাঠে নেই। এ আসনটিতে ৪ লাখ ৫৪ হাজার ৪৩৩ জন ভোটার। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ২৫ হাজার ১৯ ও নারী ভোটার ২ লাখ ২৯ হাজার ২৩৭। এ সংসদীয় আসনে রহনপুর রেলবন্দর থাকায়, এর কোন আধুনিকতার ছোঁয়া লাগেনি। অতীতে যারা ক্ষমতায় ছিলেন, তারা এ অঞ্চলের উন্নয়নে তেমন গুরুত্বের সাথে কিছু দেখেননি। বরং প্রতিশ্রুতি দিয়ে জনগণের কাছে ভোট নিয়ে কাজের কাজ করেননি। এবার ভোটাররা প্রত্যাশা করছেন যিনি বাস্তবে উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারবেন তাকেই তারা ভোট দিবেন এবং এ বিবেচনায় তারা সৎ ও যোগ্য প্রার্থী হিসেবে জামায়াতকে বেছে নিতে যাচ্ছে বলে অভিজ্ঞ মহলের অভিমত।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ (সদর) আসনে জামায়াত প্রার্থী মোঃ নূরুল ইসলাম বুলবুল, বিএনপি প্রার্থী মোঃ হারুনুর রশীদ, গণঅধিকার পরিষদ প্রার্থী শফিকুল ইসলাম ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মোঃ মনিরুল ইসলাম। ঋণখেলাপি থাকায় এ আসনে জেএসডির প্রার্থী মোঃ ফজলুর ইসলাম সুমন খানের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। জামায়াত ও বিএনপির প্রার্থী ছাড়া অন্য দলের প্রার্থীদের মধ্যে প্রচারণা নেই। এ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৬২ হাজার ৭৩৪। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৩৩ হাজার ২১৭ জন ও নারী ভোটার ২ লাখ ২৯ হাজার ৫১৭। এদিকে, ৩ টি সংসদীয় আসনে ভোটাররা চাচ্ছেন যিনি কথায় নয়, বাস্তবে কাজ করবেন তাকেই তারা ভোট দিবেন। এ আসনটি সদর আসন হওয়ায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এ আসনটিতে জামায়াতের প্রার্থী মজলুম জননেতা নূরুল ইসলাম বুলবুল নির্বাচনে লড়াই করছেন। তিনি ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমীর ও নবাবগঞ্জ সরকারি কলেজের সাবেক ভিপি হিসেবে এলাকায় তার ব্যাপক জনপ্রিয়তা রয়েছে। ভোটাররা এবার প্রত্যাশা করছেন জামায়াতের একজন কেন্দ্রীয় নেতা হিসেবে তিনি ক্ষমতায় গেলে এলাকার ব্যাপক উন্নয়ন করতে পারবেন। এর মধ্যে রয়েছে, নয়াগোলা হয়ে সোনামসজিদ পর্যন্ত বিকল্প মহাসড়ক নির্মাণ, রেলের আধুনিকায়ন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-সোনামসজিদ স্থলবন্দর পর্যন্ত রেললাইন সম্প্রসারণ, কৃষিভিত্তিক অর্থনেতিক জোন স্থাপন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরকে আধুনিক শহরে পরিণত করা, গ্রামীণ জনপদের রাস্তার উন্নয়ন ও বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান। এছাড়া, মেডিকেল কলেজ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল এ্যাসিস্ট্যান্ট ট্রেনিং স্কুল এবং পূর্ণাঙ্গ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করতে মুখ্য ভূমিকা যিনি রাখতে পারবেন বলে ভোটাররা তার কাছে আশাবাদি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *